ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল-সাদর রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “আমি সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।”
তিনি আরো বলেছেন, “এখন থেকে আমাদের কোনো শাখা থাকবে না এবং সরকারের ভেতরে বা বাইরে কিংবা সংসদে আমাদের কোনো পদ থাকবে না।”
৪০ বছর বয়সী এ নেতা বলেন, শুধুমাত্র কয়েকটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া সাদর আন্দোলন তার সমস্ত কার্যালয় বন্ধ করে দেবে।
ইরাকের মন্ত্রিসভায় বর্তমানে সাদর আন্দোলনের ছয়জন সদস্য এবং ইরাকের ৩২৫ আসনের জাতীয় সংসদে ৪০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দামের পতনের পর মুক্তাদা আল-সাদরের নেতৃত্বে মেহেদি আর্মি গঠন করা হয় এবং তারা ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
[b]কে এই মুক্তাদা আল-সাদর?[/b]
একটি ধার্মিক শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন মুক্তাদা আল-সাদর। সাদ্দাম সরকারের পতনের পর তিনি তার ধর্মীয় সমাবেশ এবং সাক্ষাৎকারে সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ধর্মীয় নেতাকে হত্যার অভিযোগ ২০০৪ সালে সাদরের বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মুক্তাদা আল-সাদরের মেহেদি আর্মি'র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে হাজার হাজার সুন্নী মুসলমানকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে।
২০০৮ সালে ইরাকি আর্মির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় সাদরের মেহেদি আর্মি। এ ঘটনার পর মেহেদি আর্মির অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাদরের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, মেহেদী আর্মি অস্ত্র সমর্পন করবে। পাশাপাশি এই মিলিশিয়া বাহিনী ভেঙে দেওয়া হবে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালিকির সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি করেন ইরাকের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা সাদর।
মালিকি যাতে ২০১০ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে পারেন, সে জন্য সাদরের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হয়। ফলে তার অনুসারীরা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
২০১১ সালে স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে ইরাকে ফিরে আসেন মুক্তাদা আল সাদর। ফিরে আসার পর তিনি ইরাকী জনগণের ঐক্য এবং শান্তির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র : বিবিসি ও আইআরআইবি
[b]ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // টিআই [/b]





