ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর নির্বাচন বয়কটের মধ্যে মঙ্গলবার প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এদিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে, ঝাড়খন্ডের ১৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেও হচ্ছে আজ প্রথম দফার ভোট।

জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বিধানসভার এ নির্বাচনকে ঘিরে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম দফায় ১৫টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। আর এসব আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাত মন্ত্রীসহ শাসক দলের ১২ জন বিধায়ক। মোট ১২৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে প্রথম দফার ভোটে। অন্যদিকে, ঝাড়খন্ডের ১৩টি বিধানসভা কেন্দ্রেও হচ্ছে আজ প্রথম দফার ভোট। সবকটি কেন্দ্রই মাওবাদী প্রভাবিত হওয়ায় নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের ১৫ টি বিধান সভা আসনে স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ এ ভূখন্ড তাদের নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে দু’বার যুদ্ধও হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে মূল লড়াই পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (পিডিপি) হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে বিজেপি এবং কংগ্রেসও। এদিকে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে হুররিয়াত কনফারেন্স, জেকেএলএফসহ স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো। একইসঙ্গে সাধারণ ধর্মঘটও চলছে। এই অবস্থায় ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নকরতে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ৪০০কোম্পানি নিরাপত্তা রক্ষী।

অপরদিকে মোদির বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরের ৮৭ সদস্যের বিধানসভায় জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ট্রাল শহরে বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণাকালে কাশ্মীরে বিজেপি’র প্রার্থী অবতার সিং ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার গডফাদার মোদি জি’র বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কারণে কাশ্মীরে জয়ের ব্যাপারে আমি দৃঢ় আশাবাদী।’

কাশ্মীরে ক্ষমতায় ভাগ বসানোর যে স্বপ্ন নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি দেখছে তা কয়েক মাস আগেও ছিল কল্পনাতীত। তবে গত মে মাসে সাধারণ নির্বাচনে মোদির বিপুল বিজয় এবং সেপ্টেম্বরে বন্যার পর কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনে ভাটা পড়ায় বিজেপি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

কাশ্মীরের স্বাধীনতা বা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য ১৯৮৯ সাল থেকে বেশ কয়েকটি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। সহিংসতায় হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

এদিকে, ঝাড়খন্ডের বিধানসভার নির্বাচনে রয়েছেন ১৯৯ জন প্রার্থী। ভোটার প্রায় ৩৪ লাখ। প্রথম দফায় তেরোটির মধ্যে বারোটি আসনে বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে। লোহারডাগা আসনটি তারা দিয়েছে জোটসঙ্গী এজেএসইউ কে। অন্যদিকে জোট গড়ে লড়ছে কংগ্রেস, আরজেডি এবং জেডিইউ।

গোয়েন্দাসূত্রে খবর, ভোটের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং ঝাড়খন্ড বিকাশ মোর্চার বেশ কয়েকজন নেতার ওপর হামলা চালাতে পারে মাওবাদীরা। গোলযোগ এড়াতে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে।

এমএ