মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের দুরাবস্থা দেখতে যেতে ও তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দিচ্ছে না সেখানকার উগ্রপন্থী রাখাইন বৌদ্ধরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের (আরআই) কর্মীরা উগ্রপন্থী রাখাইনদের বাধার মুখে ফিরে যান। সে কারণে ম্রেবুন এলাকায় ওই সংস্থা খাদ্য সহায়তা স্থগিত করায় সেখানের রোহিঙ্গারা খাদ্যাভাবে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

সূত্র জানিয়েছে, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের (আরআই) দশজনের একটি দল ম্রেবুন শহরের আইডিপি ক্যাম্পে বন্দি রোহিঙ্গাদের দুরাবস্থা দেখতে ও তাদের জন্য কিছু ত্রাণ নিয়ে গেলে বাধা দেয় স্থানীয় রাখাইনরা। এসময় প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। পরে ফিরে যেতে বাধ্য হন এনজিও কর্মীরা।

সূত্র আরো জানিয়েছে, উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের একঘরে করে রাখার চেষ্টা জোরদার করেছে। অবরুদ্ধ করে রাখা রোহিঙ্গা পল্লীগুলোতে খাদ্য-দ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচাও অঘোষিতভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বুচিডংয়ের রহিম উল্লাহ তার পরিবারের ১৩ সদস্যকে নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ তাদের গ্রাম। বাড়িতে কোনো খাবার ছিল না। খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছিল। মাঝেমধ্যে তাদের ডেকে নিয়ে ত্রাণ দেয়া হয়। ত্রাণ দেয়ার দৃশ্য ভিডিও করে পরে আবার সে ত্রাণ কেড়ে নেয় সেনা ও তাদের সাথে থাকা রাখাইনরা। শেষে ক্ষুধার জ্বালায় পালিয়ে বাংলাদেশের পথ ধরেন তারা।

গত বুধবার সকালেও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে হাজারো রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছেন। এছাড়া টেকনাফের জাদিমুড়া, নাইট্যংপাড়া, লম্বাবিল ও খারাংখালী পয়েন্ট দিয়েও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ রাখাইনের বুচিডং টাউনশিপ এলাকার। শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তের ওপারে ডংখালি নামক চর এলাকায় শত শত রোহিঙ্গা তাবু টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তারা খাবারের অভাবে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

বুচিডং টাউনশিপের ঘোদামপাড়ার বশির আহম্মদ (৬৫) ২০ দিন আগে তার পরিবার নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে অনুপ্রবেশ করে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন।

সীমান্তের ওপারের চরে তার কেউ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে আমার আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

এমএ