শ্রীলঙ্কায় ১৪০ জনের সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। যাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রীলঙ্কার কিছু তরুণ ২০১৩ সাল থেকে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।

“এ পর্যন্ত যে তথ্য আমরা পেয়েছি তাতে শ্রীলঙ্কার ১৪০ জন নাগরিক এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য খুঁজছে।”

আইএস ইতোমধ্যে ইস্টার সানডের হামলার দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে আটজনকে ওই জঙ্গি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আইএসের দাবি, ওই আটজনই সেদিন আত্মঘাতী হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কা সরকার বলেছে, হামলায় এক নারীসহ মোট নয়জনের অংশ নেওয়ার তথ্য রয়েছে তাদের কাছে, তাদের সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় দুই উগ্রপন্থি ইসলামিক দল ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) ও জমিয়াতুল মিল্লাতু ইব্রাহীমকে ঘিরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হলেও সংগঠন দুটি শ্রীলঙ্কার বাইরে থেকে সহযোগিতা পেয়েছে বলে মনে করছে দেশটির সরকার। এক্ষেত্রে আইএস এর জড়িত থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকালে তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলে একযোগে ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হন, আহত হন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

এক দশকের মধ্যে ভয়ঙ্করতম ওই আত্মঘাতী হামলার পর ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। পুরো দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য।

ভারতের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরও হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দো।

দেশটির পুলিশ প্রধান (আইজিপি) পুজিথ জয়াসুন্দরাও ইস্তফা দেবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা।

হামলার পর শ্রীলঙ্কার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হরিণ ফার্নান্দো টুইটারে একটি চিঠি প্রকাশ করেন, যেটা সপ্তাহ দুই আগে শ্রীলঙ্কা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) হাতে এসেছিল।

ওই নথিতে বলা হয়, ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) নামে একটি উগ্রপন্থি ইসলামী সংগঠন বিভিন্ন গির্জা ও ভারতীয় হাই কমিশনে হামলার পরিকল্পনা করছে। এনটিজের নেতা মোহাম্মদ জাহরানের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

জেড