ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিত বার্ষিক গণবিক্ষোভের আগে অবরুদ্ধ গাজা সীমান্তে শতাধিক শার্প শুটার (লক্ষ্যভেদ করতে দক্ষ সেনা) মোতায়েন করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

ফিলিস্তিনিদের ওপর তাজা গুলি করার সরাসরি নিদের্শনা দিয়েই তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গাদি এইজেনকোট।

ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমি থেকে বিতাড়নের ৭০তম বার্ষিকী ও ৪২তম ভূমি দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনিরা শুক্রবার গাজা উপত্যকায় বিশাল বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরাইলি সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনি শহীদ হন। শহীদদের স্মরণে ওই বছর থেকেই ভূমি দিবস পালন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা।

এর আগে ১৯৪৮ সালের ২০ জুলাই ফিলিস্তিন যুদ্ধের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে ইসরাইল। ২০০৭ সাল থেকে গাজা দখল করে রেখেছে ইসরাইল।

‘দ্য গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামের এ গণবিক্ষোভের সংগঠকরা জানিয়েছেন, গাজার ওই স্পর্শকাতর সীমান্তে পুরো পরিবারসহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জমায়েত হবে বলে আশা করছেন তারা।

ইসরাইলের হাতে দখলিকৃত তাদের মাতৃভূমিতে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার অধিকার আদায়ের দাবিতে শুক্রবার থেকে ৬ সপ্তাহব্যাপী এক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন তারা। প্রতিবাদে যোগ দেয়া লোকজন সীমান্ত বরাবর পাঁচটি জায়গায় তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করবেন।

প্রতি বছর এ বিক্ষোভ সমাবেশ হলেও এবার এতে ভিন্নতা রয়েছে। বিক্ষোভের সংগঠকরা জানিয়েছেন, গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস আন্দোলনসহ ফিলিস্তিনিদের বেশ কয়েকটি উপদল এ প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

হামাসের প্রায় ১ লাখ সক্রিয় সমর্থক এবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর এ কারণেই বেশ উদ্বিগ্ন ইসরাইল। হামাস শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিলেও সহিংস হওয়ার চেষ্টা করছে তেল আবিব।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ইসরাইলের সীমান্ত বেড়া সংলগ্ন গাজার অংশে একটি ‘প্রবেশ নিষেধ’ জোন আরোপ করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

জেনারেল এইজেনকোট দৈনিক এদিওথ আহরোনোথকে জানিয়েছেন, প্রতিবাদ চলাকালে সীমান্ত বেড়ার কোনো ক্ষতিসাধন বা ‘ব্যাপক অনুপ্রবেশ’ মেনে নেবে না ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

তিনি বলেন, ‘আমরা শতাধিক শার্প শুটার মোতায়েন করেছি। পুরো সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে তাদের বেছে নেয়া হয়েছে। রয়েছে স্পেশাল ফোর্সের সদস্যও। নো হাঙ্গামার আশঙ্কা তৈরি হলে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

তিনি হুশিয়ারির সুরে আরও বলেন, গাজা সীমান্তে মোতায়েন এসব শুটারদের ‘সর্বোচ্চ ক্ষমতা’ ও ‘তাজা গুলি’ ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা যাতে সীমান্তের কাছাকাছি যেতে না পারে সে লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এইজেনকোট বলেন, ‘ইসরাইলি কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হুমকির মুখে পড়লে সেনারা গুলি চালাতে পিছ-পা হবে না।’ সূত্র: এএফপি ও রয়টার্সের।

এসএম