২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৬৫ জন সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী নিহত হয়েছেন। জিম্মি করা হয়েছে ৫৪ জনকে। বন্দী করা হয়েছে ৩২৬ জনকে।

নিখোঁজ রয়েছেন ২ জন। নিখোঁজ দুজনের মধ্যে একজন হচ্ছেন বাংলাদেশের উৎপল দাস।

এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পায়নি পুলিশ। মঙ্গলবার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের(আরএসএফ) এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।

আরএসএফের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক খবরে বলা হয়, নিহত ৬৫ জনের মধ্যে খুন হয়েছেন ৩৯ জন। বাকিরা কর্মরত অবস্থায় বিমান হামলা, আত্মঘাতী হামলা ও বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার। ১৪ বছরের মধ্যে এই বছরই বিশ্বজুড়ে খুন হওয়া পেশাদার সাংবাদিকের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এই বছর খুন হওয়া সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীর হার কম হওয়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে, যুদ্ধ-আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে কাজ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের এখন আগের চেয়ে ভালো নিরাপত্তাজনিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনেক সাংবাদিক এখন বিপজ্জনক দেশগুলোতে কাজ করা ছেড়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও লিবিয়ার মতো বিপজ্জনক দেশগুলো থেকে সাংবাদিকরা সরে যাচ্ছে। আরএসএফ অনুসারে, বর্তমান বিশ্বে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হলো যুদ্ধ-বিপর্যস্ত সিরিয়া। এর পরেই রয়েছে মেক্সিকো। এই বছর সিরিয়াতে খুন করা হয়েছে ১২ সাংবাদিককে। আর মেক্সিকোতে ১১ জনকে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মেক্সিকো সাংবাদিকদের জন্য যুদ্ধের কারণে বিপজ্জনক নয়। তবে, যারা সেখানে রাজনৈতিক দুর্নীতি বা সুসংগঠিত অপরাধ নিয়ে কাজ করেন, প্রায়শই তাদেরকে সিস্টেম্যাটিকভাবে টার্গেট করে হুমকি দেয়া হয় ও হত্যা করা হয়।

প্রতিবেদনে, ফিলিপাইনকে এশিয়ার মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর সেখানে পাঁচ জন সাংবাদিককে গুলি করা হয়। তাদের মধ্যে চার জন পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ এর আগের বছর সেখানে কোন সাংবাদিকই হত্যার শিকার হননি।

এদিকে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক আটক হয়েছে তুরস্কে। সবমিলিয়ে সেদেশে বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন ৪২ জন রিপোর্টার ও একজন মিডিয়া কর্মী। এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে তাদেরকে আটক করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের সমালোচনা, ‘সন্দেহভাজন’ মিডিয়া সংস্থার জন্য কাজ করা, সরকারের গোপন কিছু বিষয় নিয়ে তথ্য আদান প্রদান করা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে সাংবাদিককের আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্লগার আটক করার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে চীন। সেখানে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। আরএসএফ অভিযোগ তুলেছে যে, চীনে সাংবাদিক ও ব্লগারদের কঠোরভাবে নির্যাতন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা সরকার তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানুষদের আর হত্যা করেনা। তার বদলে, তাদেরকে জেলে আটকে রাখা হয়। যেখানে তারা ঢুকে ঢুকে মারা যায়। তুরস্ক ও চীন ব্যতিত অন্যান্য দেশের মধ্যে সিরিয়ায় আটক করা হয়েছে ২৪ জনকে, ইরানে ২৩ জনকে ও ভিয়েতনামে ১৯ জনকে।

জেড