পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী ও নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন দেশটির খাইবার পাকতুনখোয়ার জাতীয় পরিষদের নারী সদস্য বা এমএনএ মুসসারাত আহমদ জেব।
সোয়াত রাজবংশের সদস্য এবং পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ বা পিটিআই’এর এমএনএ মুস্সারাত বলেন, বিবেকের তাড়ানোয় এতকাল পরে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
টুইট বার্তায় তিনি আরো দাবি করেন, মালালার কথিত নাটকে জড়িত গোষ্ঠী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু কথিত নাটকের অংশ হতে রাজী হন’নি বলেও জানান তিনি।
টু্ইট বার্তায় তিনি বলেন, মালালার বিষয়ে চুপ থাকার সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সুপিরিয়র সার্ভিস বা সিএসএস পরীক্ষা উপজাতীয় এলাকা থেকে প্রথম স্থান অধিকারকারী জারমিনা ওয়াজির যখন বলেন, মালালা তাকে অনুপ্রাণিত করেছেন তখন বিবেকের তাড়ানোয় সত্য প্রকাশে বাধ্য হন তিনি। বিবিসিতে যখন ‘গুল মাকাই’ ছদ্মনামে মালালা ব্লগ লিখতেন তখন তিনি পড়ালেখাই জানতেন না বলেও দাবি করেন মুস্সারাত। এ ছাড়া, গুলিতে আহত মালালার মেডিক্যাল পরীক্ষা যারা করেছিলেন তারাও সরকারি ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন বলেও দাবি করেন।
তিনি আরো প্রশ্ন করেন, তালেবানের হামলার ঘটনার পর পেশোয়ারের পাকিস্তানের আর্মি স্কুলের কোনো ছাত্র বা শিক্ষক কি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন? ডজন ডজন মেয়ে চাপ মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন এবং তাদের লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এখন গ্রাজুয়েট হতে চলেছেন। এরপর মালালার একটিমাত্র সাফল্য তার সামনে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তিনি।
মুস্সারাত আহমদ জেবের এ দাবি পিটিআইকে নতুন করে সমালোচনার মুখে ফেলবে বলে ধারণা করছেন পাকিস্তানের বিশ্লেষকরা।
২০১২ সালের অক্টোবর মাসে সোয়াত উপত্যকার মিঙ্গোরা শহরে কিশোরী মালালার মাথায় গুলি করে বন্দুকধারীরা। তার আগে থেকেই গোঁড়াবাদিতার বিরুদ্ধে এবং নারী শিক্ষার পক্ষে কাজ করে আসছিলেন মালালা। হামলায় উগ্রবাদী তালেবান জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছিল।
টাইমনিউজবিডি.নেট/ মাহমুদ





