মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্ন মিউনিখকে প্রথম এগিয়ে নেন বেঞ্জামিন পাভার্ড। এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং।
আগেই গ্রুপ পর্বের পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে পরের পর্বের টিকিট এবং গ্রুপসেরাও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বায়ার্নের। আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচেও দারুণ ফর্ম ধরে রাখল বায়ার্ন মিউনিখ। আরো একবার জাল অক্ষত রেখে তুলে নিল জয়। ইন্টার মিলানকে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে নকআউটে পর্বে পা রাখল জার্মান ক্লাবটি। গ্রুপ পর্বে ছয় ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই জাল অক্ষত রাখল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
গ্রুপ পর্বে মাত্র দু’টি গোল হজম করা বায়ার্ন শুরুতেই বিপদে পড়তে পারতো। সাত মিনিটে নিকোলো বারেল্লার দূর থেকে নেয়া শট বাঁক খেয়ে লক্ষ্যেই ছিল, ঝাঁপিয়ে ঠেকান বায়ার্ন গোলরক্ষক সভেন উলরিখ।
পরের মিনিটে আবারো দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন ইতালিয়ান মিডফিল্ডার বারেল্লা। মুখ বরাবর বল আসতে দেখে হাত উঁচু করে ঠেকান সাদিও মানে। ধারাভাষ্যকারকে বলতে শোনা যায়, হয়তো পেনাল্টি পেতে যাচ্ছে ইন্টার। কিন্তু ভিএআরে সাইড মনিটরে অনেকটা সময় ধরে দেখে ইন্টারের দাবি নাকোচ করে দেন রেফারি।
২৬ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লাওতারো মার্তিনেজ। বাঁ দিক থেকে রবিন গোজেন্সের বাড়ানো দারুণ পাস গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পেয়ে যান মার্তিনেজ, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে তার স্লাইডে বল চলে যায় ওপর দিয়ে।
ইন্টার দারুণ সব সুযোগ তৈরি করলেও আক্রমণ বেশি করছিল বায়ার্ন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম নিশ্চিত সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে লাফিয়ে নেয়া হেডে গোলটি করেন বেঞ্জামিন পাভার্ড। এই ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই হেডে জালে বল পাঠান ইন্টারের মিডফিল্ডার আসলানি। তবে সঙ্গে সঙ্গেই অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। ৬৩ মিনিটে ওভারহেড কিকে লক্ষ্যভেদ করেন চুপো-মোটিং। তবে তিনিসহ একাধিক খেলোয়াড় ছিলেন অফসাইডে। যার কারণে বাতিল করা হয় গোল।
৭২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে জালে বল পাঠান দারুন ছন্দে থাকা চুপো মোটিং। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই ও সব মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে নিশ্চিত সুযোগ পেয়েও গোল আদায় করতে পারেননি এডিন জেকো। তার কোনাকুনি শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে ফেরান উলরিখ। ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নাগ্যালসমানের শিষ্যরা।
ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১৮ বার বল পাঠাল ছয়বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ছয় ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ‘সি’ গ্রুপের সেরা বায়ার্নের পয়েন্ট ১৮। গ্রুপ রানার্সআপ ইন্টারের পয়েন্ট ১০।
গ্রুপের আরেক ম্যাচও ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার। সেখানে ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের মাঠে ৪-২ গোলে জিতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আসর শেষ করেছে বার্সেলোনা। ইউরোপা লিগে নেমে যাওয়া দলটির পয়েন্ট ৭। সব ম্যাচে হেরে খালি হাতে ফিরল ভিক্টোরিয়া।
এবিএস





