লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানান, বৈরুত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনসার শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে ইসরাইলি হামলায় সাতজন নিহত হন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আনসারে হামলাটি চালানো হয়। ওই এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বসবাস করছিল। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রামের রাস্তাগুলো দেখা যায়।

হামলার নিন্দা জানিয়ে নওয়াফ সালাম বলেন, নিহত সাতজনই বেসামরিক নাগরিক এবং ওই এলাকায় কোনো সামরিক অবকাঠামো ছিল না। তিনি ইসরাইলকে উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।

তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হামলায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, রাদওয়ান ফোর্সের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান ছিলেন হামলার লক্ষ্য।

আইডিএফ আরও দাবি করেছে, হাসান সামরিক সদর দপ্তরের ভেতরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলেও দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর পাল্টা হামলা চালানো হয়।

হিজবুল্লাহ অবশ্য ইসরাইলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং পরে হামলার স্থানগুলোকে সামরিক স্থাপনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে শনিবার দেইর আল-জাহরানি এলাকায় আরও কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

এর আগে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরাইল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্থল অভিযান পরিচালনা করে। ইসরাইলি বাহিনী এখনো লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এস