সরকারি হাসপাতালে মাত্র একজন সার্জন। তিনি আবার প্রশিক্ষণকালীন ছুটিতে আছেন।এদিকে এক নারীর অবস্থা মরণাপন্ন। জরুরি অস্ত্রোপচার না করা গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।

নিজ আসনের ওই নারীর এমন খবর শুনে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন এক জনপ্রতিনিধি।

তারপর নিজহাতে ওই নারীর সফল অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি। এতে রোগিও সেরে উঠেছেন।ভারতের মিজোরামের সাইহা জেলায় সম্প্রতি এমন আলোড়নের জন্ম দিয়েছেন বিধায়ক কে বেইছুয়া।

৫২ বছর বয়সী এই জনপ্রতিনিধি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। আগে চিকিৎসা সেবার চর্চা করলেও বিধায়ক হওয়ার পর আর ছুরি-কাঁচি হাতে নেননি।

তবে নিজ আসনের ৩৫ বছরের ওই নারীকে বাঁচাতে জুররি অস্ত্রোপচার করতে দ্বিধা করেননি তিনি।

বেইছুয়া বলেন, ওই নারীর পেটে একটা বড় ছিদ্র হয়ে গেছিল। এ কারণে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। জরুরি অস্ত্রোপচার না করা গেলে তার প্রাণহানির আশংকা ছিল।

তিনি বলেন, এ খবর শুনে রাজনৈতিক কর্মসূচি ফেলে অপারেশন থিয়েটারে ছুটে যাই। সফল অস্ত্রোপচার শেষে এখন ওই নারী এখন ভাল আছেন।

সাইহা জেলার উপ-কমিশনার এন চাখাই বলেন, প্রশাসনিক এক বৈঠকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক স্বল্পতার প্রসঙ্গ উঠলে বিধায়ক বেইছুয়া সাইহা হাসপাতালে নিজে হাতে অস্ত্রোপচারের কথা তুলে ধরেন।

১৯৯১ সালে ইম্ফল রিজিওনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন ডা. বেইছুয়া। পরে ২০ বছর চিকিৎসা সেবায় জড়িত ছিলেন তিনি।

২০০৮ সালে মিজোরামের বিধানসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ে হেরে যান। এরপর ২০১৩ সালে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে পেশা ছাড়েন তিনি।

বেইছুয়া বলেন, চিকিৎসক ক্যারিয়ারে কয়েকশ' অস্ত্রোপচার করেছি। বিধায়ক হওয়ার পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ অস্ত্রোপচার করেছি।
মাহমুদ