বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তী নেলসন ম্যান্ডেলার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পুরো বিশ্ববাসী। গত বছরের এই দিনে (৫ ডিসেম্বর) ৯৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আল জাজিরা।
শুক্রবার ভোরে এক প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকানরা। সপ্তাহব্যাপী এমনকি এর চেয়েও বেশি সময় ধরে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে বলে জানা গেছে।
শুকবার তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে তার পথিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে বাঁশি, বেল, ঐতিহ্যবাহী শিংয়ের বাঁশি (যা ভুভুজেলা নামে পরিচিত) বাজানো হয়। বাঁশি বাজানো হয় তিন মিনিট সাত সেকেন্ড ধরে। এরপর আবার তিন মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বাঁশি বাজানো এবং নীরবতা মিলিয়ে ৬ মিনিট ৭ সেকেন্ড সময় নেয়া হয়। ম্যান্ডেলার ৬৭ বছরের ত্যাগ, সংগ্রাম আর জনসেবার সঙ্গে মিল রেখে ৬ মিনিট আর ৭ সেকেন্ড মিলানো হয়েছে।
ম্যান্ডেলার আদর্শ অনুসরণ করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার অধিবাসীদের প্রতি আহবান জানান দেশটির অপর এক কিংবদন্তী নোবেল বিজয়ী আর্চবিশপ এমিরেটাস ডেসমন্ড টুটু।
তিন মিনিট নীরবতা পালনে উপস্থিত ছিলেন দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি সাইরিল রামাফোসা। এ ছাড়া ম্যান্ডেলার প্রতি সম্মান দেখিয়ে একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। 'ম্যান্ডেলা লিগ্যাসি কাপ' নামের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় রাগবি দল এবং ক্রিকেট দলের মধ্যে।
তাছাড়া সপ্তাহান্তে নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনে আর্টিস্ট এবং অভিনেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন। ম্যান্ডেলার সম্মানার্থে একটি চিত্রকলা প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হবে।
ম্যান্ডেলার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মোটর সাইক্লিস্টরা আগামী রোববার দেশব্যাপী একটি মোটর শো করবে।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগ করেন নেলসন ম্যান্ডেলা। দীর্ঘ কারভোগের পর ১৯৯০ সালে তিনি ছাড়া পান। এরপর ১৯৯৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসানে অবদান রাখায় ১৯৯৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এমএ
















