ঢাকায় বন্দুকধারীদের আক্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের হতাহতের কারণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালি ও জাপানে। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হতাহতের মধ্যে নয়জন ইতালি ও সাতজন জাপানের নাগরিক।

নিহতদের শোকে ইতালির জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ইউরো-২০১৬ কোয়াটার ফাইনাল খেলায় ইতালির খেলোয়াররা ঢাকার ঘটনা স্মরণে হাতে কালো ব্যান্ড পরে।

ভিকটিমদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নিতে জাপান সরকার ঢাকায় একটি বিমান পাঠাচ্ছে।

ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাটারিলা ঢাকার ঘটনার পর মেক্সিকো থেকে দেশে ফিরে বলেছেন, ভিকটিমদের পরিবারগুলোর সাথে পুরো ইতালি একাত্মতা প্রকাশ করছে। তাদের মতই আমরা সমব্যাথী।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বর্বরতা বর্তমান বিশ্বের জন্য প্রধান ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবার অভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।

এদিকে ঢাকায় ভিকটিমদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে জাপান সরকার বাংলাদেশে একটি বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

জাপানের মুখ্য সচিব সাগু বলেছেন, এই বিমানে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা (জাইকা) এবং যেসব কোম্পানির অধীনে ভিকটিমরা কাজ করতেন, তাদের স্টাফরা যাবেন।

ঢাকায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনই জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজে জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন। এ ঘটনায় অপর একজন গুলিবিদ্ধ জাপানি নাগরিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হতাহত সবাই টোকিওভিত্তিক তিনটি কোম্পানিতে কাজ করতেন।

ঢাকার ঘটনায় ভিকটিম একজন জাপানি নাগরিকের বাবা বার্তা সংস্থা এপির সাথে আলাপকালে বলেছেন, পিতা হিসেবে এই ব্যাথা সহ্য করার মতো না। তার বয়স ছিল মাত্র ৩২। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তাকে সাবধানে থাকতে বলেছিলাম। এটাই তার সাথে আমার শেষ কথা ছিল।

দুঃখজনকভাবে গত এক বছরে বাংলাদেশে বিদেশীর ওপর আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছেন ইতালি ও জাপানের নাগরিকরা। গত সেপ্টেম্বরে গুলশানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা। আর পরের মাসেই রংপুরে একই কায়দায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানের নাগরিক হোসি কোনিও। ইতালির নাগরিকরা মূলত তৈরি পোশাক খাত এবং জাপানের নাগরিকরা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের জন্য বাংলাদেশে এসে থাকেন। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী দেশ।

এমআইএস