দুঃসাহসী এক অভিযান চালানো হচ্ছে দক্ষিণ মেরুতে। সেখানকার এক গবেষণাকেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক কর্মী। জরুরি চিকিৎসাসেবা দরকার। সে কারণেই তাকেই উদ্ধারের জন্য চালানো হচ্ছে এই দুঃসাহসী অভিযান।
ইতিহাসে মাত্র দুই বার এ ধরণের অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে টুইন ওটার বিমান। মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও উড়তে সক্ষম এই ধরনের বিমান। দক্ষিণ মেরুতে এখন শীতকালের মাঝামাঝি। তাপমাত্রাও মাইনাস ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অ্যান্টার্কটিকা উপদ্বীপে ব্রিটেনের রোথেরা ঘাঁটি থেকে ৯ ঘণ্টা উড়ে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের সায়েন্স কেন্দ্রে পৌঁছেছে। সঙ্গে আছে আরেকটি একই ধরনের বিমান। প্রথম বিমানটি বিপদে পড়লে এগিয়ে যাবে দ্বিতয়টি।
বিমানে রয়েছেন তিন ক্রু সদস্য ও একজন চিকিৎসাকর্মী। ওই অসুস্থ কর্মীকে রোথেরা বিমান ঘাঁটিতে আনার আগে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হবে তাদের। এরপর শুরু হবে মূল অভিযান। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায়, রোথেরা বিমান ঘাঁটিটি পরিচালনা করছে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে।
গবেষণাকেন্দ্রের এক কর্মীর জরুরি চিকিৎসাসেবা দরকার, একথা জানতে পেরে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) ওই কর্মীকে উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নেয়। গবেষণাকেন্দ্রে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আমুন্ডসেন-স্কট সাউথপোল কেন্দ্রটি পরিচালনা করে থাকে এনএসএফ।
ওই কেন্দ্র থেকে অসুস্থ কর্মীকে উদ্ধারের পর উদ্ধারকর্মীদের দক্ষিণ আমেরিকায় ফেরার কথা। সেখানে তার চিকিৎসা করা হবে। তার পরিচয় ও কী ধরনের চিকিৎসাসেবা তাকে দেওয়া হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। কেবল বলা হয়েছে, তিনি পুরুষ এবং লকহিড মার্টিনের একজন কর্মী। এই সংস্থাটি গবেষণাকেন্দ্রের লজিস্টিকসের বিষয়টি দেখাভাল করছে।
এনএসএফের মুখপাত্র পিটার ওয়েস্ট বলেন, সবকিছুই পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যাচ্ছে। গবেষণাকেন্দ্রের আরেকজন কর্মীও অসুস্থ। তবে তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কর্মকর্তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ওই গবেষণাকর্মীকে ফিরিয়ে আনা হলে, তিনি হবেন দক্ষিণ মেরু থেকে শীতকালে উদ্ধার করে আনা তৃতীয় কর্মী। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি থেক অক্টোবর মাস পর্যন্ত গবেষণাগারের কর্মীরা থাকেন মূলত বিচ্ছিন্ন হয়ে। ওই সময় দক্ষিণ মেরুতে বিরাজ করে প্রচন্ড ঠান্ডা। এ ছাড়া অন্ধকারে ঢাকা থাকে পুরো অ্যান্টার্কটিকা। এ অবস্থায় বিমান চলাচল করা ভীষণ বিপজ্জনক।
আবহাওয়া বার্তায় দেখা যায়, অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা মঙ্গলবার ছিল মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওয়েস্টের মতে, টুইন ওটার বিমানটি মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলাচল করতে সক্ষম। তবে এর আগে বিমানের জ্বালানি, ব্যাটারি ও হাইড্রোলিক সিস্টেম গরম করে নিতে হয়।
দুটি টুইন ওটার বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে এই অভিযানে। এই বিমানগুলো মূলত পরিচালনা করে থাকে কানাডার বিমান সংস্থা কেন বোরেক অ্যান্ড লেফট ক্যালগ্যারি।
রোথেরা বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর গবেষণাকেন্দ্র অভিমুখে একটি বিমানের যাত্রা করার কথা মঙ্গলবার সকালে। ১০ ঘণ্টায় দেড় হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেওয়ার কথা বিমানটির।
আরেকটি বিমান রোথেরাতেই অপেক্ষা করবে। প্রথম বিমানটি যদি বিপদে পড়ে সেটিকে উদ্ধারের জন্য কাজে নামবে দ্বিতীয়টি। প্রয়োজনে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করবে প্রথম বিমানের আরোহীদের।
এই উদ্ধার অভিযানটি হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক। অ্যান্টর্কটিকার আয়তন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সমান। সুতরাং দূরত্ব একটি বিষয় হয়ে আছে বলে উল্লেখ করে ওয়েস্ট বলেন, দক্ষিণ মেরুতে এখন প্রচন্ড ঠান্ডা। আক্ষরিক অর্থেই সেখানে এখন শীতকাল। শুধু শীতকাল বললে ভুল বলা হবে, বরং বলা উচিত শীতকালের মাঝামাঝি সময়।
ইতিহাসে শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল দুই বার। একবার ২০০১ সালে উদ্ধার করা হয় এক পদার্থ বিজ্ঞানীকে। ২০০৩ সালে উদ্ধার করা হয় আরেকজনকে।
এ ছাড়া আরো একবার অভিযান চালানো হয় গবেষণাকেন্দ্রটির এক নারী চিকিৎসককে উদ্ধার করার জন্য। তবে অ্যান্টার্কটিকায় তখন চলছিল বসন্ত। তাই তাকে উদ্ধার করতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। আবহাওয়া ছিল অপেক্ষাকৃত ভালো।
গবেষণাকেন্দ্রে এখন ৩৯ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। তাদের সকলেই বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। কেউ করছেন গবেষণা, কেউবা আবার নিয়োজিত রয়েছেন রক্ষাণাবেক্ষণের কাজে। কয়েকজন পরিমাপ করছেন দীর্ঘমেয়াদে বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড।
এফএফ





