মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন তিনি আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তায় ঠাসা একটি প্রশাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাক লাগানো এক জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হন ৯২ বছর বয়সী মাহাথির।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। নিজের দেশের প্রসঙ্গ ছাড়াও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্যযুদ্ধ ইত্যাদি প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।

সাক্ষাতকারে মাহাথির বলেন, ‘আমরা সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে বিশ্বস্ত কোনো কর্মকর্তা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে আমরা বুঝতে পারছিলাম, দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে গোটা প্রশাসন। কিন্তু পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ তা প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার আগে বুঝতে পারিনি। সরকার যাদের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে, সেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই দুর্নীতিগ্রস্ত।’

মাহাথিরের পূর্বসূরি নাজিব রাজাক জনগণের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাকে এমন লোকজনকে নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে যারাও দুর্নীতির কারণে বিচারের মুখোমুখি হবার যোগ্য। এটা ভীষণ কঠিন একটা কাজ। কারণ যাদের আপনি বিশ্বাস করতে পারেন না, তাদের যে দায়িত্ব দিবেন তা তারা আদৌ ঠিকভাবে করবে কি না সেই সংশয় থেকে বের হওয়া কঠিন।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ সূচক অনুসারে মালয়েশিয়া বিশ্বের ৬২ তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। মাহাথির বলেন, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা তাদের অর্জিত বিপুল অর্থ নিজেরা এবং স্ত্রী-সন্তানদের বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, বিদেশভ্রমণ, কিংবা দেশের বাইরের ব্যাংকে জমা করার সুযোগ পেয়েছেন। সরকার তাদের বিন্দুমাত্র বাধা দেয়নি।’ মার্কিন এই গণমাধ্যমকে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যতদিন সুযোগ পাই জনগণের সেবা করে যাব।

জেড