যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১৫ জন বালিকাকে ধর্ষণ করেছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ৩ ভাই, তাদের এক নিকট আত্মীয়। এ অপরাধে সহায়তা করেছে আরও দু’জন। এ অভিযোগে তাদেরকে মোট ১০৩ বছরের জেল দিয়েছে সেখানকার আদালত।

ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই সেখানকার পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। অবশেষে শুক্রবার শেফিল্ড ক্রাউন কোর্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে।

এতে বলা হয়েছে, ধর্ষণ চক্রের মূলহোতা আরশিদ হোসেন (৪০)। ২৩টি অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য তাকে দেয়া হয়েছে ৩৫ বছরের জেল। অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সী বাশারতকে দেয়া হয়েছে ২৫ বছরের জেল। তাদের ছোটভাই ৩৬ বছর বয়সী বানারাসকে দেয়া হয়েছে ১৯ বছরের জেল। তাদের ৫৩ বছর বয়সী এক আঙ্কেল কুরবান আলীকে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের জেল। একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে কারেন ম্যাকগ্রেগর (৫৮)কে। তাকে দেয়া হয়েছে ১৩ বছরের জেল। ম্যাকগ্রেগরের বাসায় থাকতো শেলি ডেভিস (৪০)। তাকেও সন্দেহভাজন হিসেবে ১৮ মাসের সাজা দেয়া হয়েছে। তবে তার আইনজীবিরা বলেছেন, তিনি শৈশব থেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। সব অভিযুক্তের শাস্তি মিলিয়ে মোট ১০৩ বছরের জেল দেয়া হয়েছে।

শাস্তি ঘোষণা করে বিচারক সারাহ হোয়াইট বলেন, তারা যে অপরাধ করেছে তা অকল্পনীয়। এতে নির্যাতিত, তার পরিবার ও সর্বোপরি সমাজের ওপর যে প্রভাব পড়েঠে তা ভয়াবহ। তারা প্রতিটি টিনেজারের অপূরণীয় মানসিক ক্ষতি করেছে। এ ক্ষত নিয়ে তাদেরকে বাকিটা জীবন চলতে হবে। দু’মাস ধরে এ মামলার বিচারকাজ চলে।

অভিযুক্তরা টিনেজ মেয়েদের হয়তো ধর্ষণ করতো না হয় তাদের ওপর নির্যাতন চালাতো না হয় তাদেরকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাতো। তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছিল কমপক্ষে ১৫টি মেয়ে। তাদের মধ্যে ১২ জন শাস্তি ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিল। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান ইন্সপেক্টর মার্টিন টাইট বলেছেন, যে শাস্তি দেয়া হয়েছে তার জন্য নির্যাতিতদের পক্ষ সন্তুষ্ট।

এমএম