বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দুইশ’রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষ কবলিত এলাকায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের যাওয়ার কয়েকঘন্টা পরেই, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উত্তরপূর্ব দিল্লির ভজনপুরায় নতুন করে সহিংসতার খবর পাওয়া গিয়েছে। তথ্য সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। 

টানা চারদিন ধরে চলতে থাকা সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধে থেকে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দিল্লির ভজনপুরা, মৌজপুর, কারাওয়ালনগরে।

হিংসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতায় অভিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক বৈঠক করেছেন। দিল্লি পুলিশ ১৮টি এফআইআর করেছে। গ্রেফতার হয়েছে ১০৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি দিল্লি পুলিশের।

এদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জাস্টিস এস মুরলিধর, যিনি বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিতে হওয়া হিংসার জন্য কেন্দ্র, রাজ্য সরকার ও দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করেছিলেন তাঁকে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়েছে।

সেই বদলির প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করে দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবীরা।

দিল্লি হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন ‘দ্ব্যর্থহীন এবং যথাসম্ভব কড়া ভাষায়’ বদলির সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলে, এর ফলে প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর মঙ্গলবার মাঝরাত থেকে বিচারপতি মুরলীধরের ভূমিকা দেখার পরে সেই আইনজীবীরাই বলছিলেন, কার্যত দিল্লির মানুষের ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠলেন তিনি।

গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে দিল্লির সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অন্তত ১৯০ জন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধসহ সব ধরণের হামলার শিকার ব্যক্তিরাই আছেন।

দিল্লির সহিংসতায় মূল টার্গেট মুসলিমরা। শুরু হওয়া সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়।

মুসলমানদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মসজিদে আগুন দিয়ে মিনারের চূড়ায় হনুমানের পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুরা।

ভারতের সহিংসতা নিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সহিংসতার তৃতীয় রাতেও বেশীরভাগ ঘটনায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার খবর পাওয়া গেছে। গত এক দশকের মধ্যে চলমান ঘটনাবলীকে ভারতে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষ ও বিপক্ষ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিলো রোববার, যা পরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয় বলে জানান সংবাদদাতারা।

ছবি এবং ভিডিওতে সয়লাব হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া। এসব ছবিতে দেখা গেছে, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি লাঠি-রড নিয়ে মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সংঘর্ষকারীরা

মুস্তাঈন