করম চাঁদ গান্ধী তথা মহাত্মা গান্ধী কি 'বর্ণবিদ্বেষী' ছিলেন ? ওদের দৃঢ় ধারণা তাই। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যে তাই দুর্বৃত্তরা দিল সাদা রং। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গান্ধীকে তারা বর্ণবাদী বলে অভিহিত করে সাদা রং লেপটে দেয়।
নিরাপত্তাকর্মী এন্টান্ডজো খিপি জানান, রবিবার দুপুরে কয়েকজন লোক একটি গাড়িতে করে আসে এবং বালতিতে থাকা সাদা রং মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যে ঢেলে দেয়। এছাড়া ভাস্কর্যের চারদিকে থাকা ফলকেও (যেখানে গান্ধী সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা আছে) রং ঢেলে দেয়।
ওই ফলকটিতে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্কের পুঙ্খানুপুঙ্খ লেখা ছিল। তাদের হাতে থাকা পোস্টারে গান্ধীকে 'বর্ণবাদী' বলে উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দিলে, তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, আমাদের এই কাজে বাধা দেয়া উচিত নয়। কারণ, গান্ধীজি মানুষটা ছিলেন বর্ণবাদী।
তিনি জানান, এ সময় তাদের কাছে প্লাকার্ড ছিল এবং তাতে লেখা ছিল ‘বর্ণবাধী গান্ধীর অবশ্যই পতন হোক’।
জোহেনসবার্গ শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে গান্ধীর এই মূর্তিটি। আদালতের পোশাকে মহাত্মা গান্ধী। আর কোথাও গান্ধীর এমন মূর্তি নেই। মহাত্মা গান্ধীকে সম্মান জানাতে শহরের কেন্দ্রস্থলের নাম রাখা হয়েছে গান্ধী স্কোয়্যার। জানা গিয়েছে, গান্ধি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সময়ে ওখানেই ওকালতি করতেন। ১৮৯৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। ওকালতির জন্য জোহেনসবার্গে যান ১৯০৩ সালে। ক্রমে সেখানকার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। জানা গিয়েছে, তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মূর্তটি।
খিপি জানান, এ সময় তাদের পরনে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) দলীয় পোশাক ছিল। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয় বলে জানান ওই নিরাপত্তাকর্মী।
যদিও, ঘটনার দায় এড়িয়ে গিয়েছেন ANC মুখপাত্র কেইথ খোজা। তাঁর দাবি, ANC এ ধরনের কাজ সমর্থন করে না। বিক্ষোভকারীরা তাদের দলের কেউ নয়। তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই দুর্বৃত্তরা এএনসি দলীয় পোশাক ব্যবহার করেছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।
এএইচ





