গত শুক্রবার (২২ মে) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের পাঠানো ওই নির্দেশনা ডিজিপি, পুলিশ কমিশনার, কলকাতার ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এবং সব জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানের দায়ে আটক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিস্তারিত প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএ) গাইডলাইন অনুযায়ী আটক বিদেশি নাগরিক ও সাজা শেষে মুক্তি পাওয়া বিদেশি বন্দিদের প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার অবৈধ অভিবাসন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্রুতগতিতে সেই কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২০ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, “যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আছেন তারা নিরাপদ। তবে যারা সিএএ-এর আওতায় নন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
নির্দেশনার পর সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার জন্য বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এস