১৯৮০ সালের পূর্বে মিশর ছিল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তখন থেকেই ইসলামকে গ্রহণ করা হয় রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে। দেশটির বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম। এরকম একটা দেশে মুক্তমনা লেখকরা প্রায়ই ঝামেলায় পড়েন। আহমেদ নাজি নামের একজন মিশরীয় লেখক তার বইয়ে যৌন বিষয়ক খোলামেলা কথা লেখায় আদালত তাকে ২ বছরের জেল দিয়েছে।

গত শনিবার মিশরের একটি আদালত উপন্যাসিক নাজিকে তার ‘ইউজিং লাইফ’ উপন্যাসের মাধ্যমে জনমানুষের ভদ্রতা এবং মূল্যবোধে আঘাত হানার জন্য এই সাজা দেয়।

মিশরের একজন সাধারণ নাগরিক প্রথম অভিযোগ তোলেন যে, নাজির লেখা পড়ে তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং তার রক্তচাপ কমে যায়।

রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা মামলাটি আদালতে নিয়ে যান এবং দেখান যে, নাজি তার লেখায় যৌনতা নিয়ে অনেক অশ্লীল কথা ব্যবহার করেছেন যেটা সামাজিক মূল্যবোধের জন্য মানহানিকর।

নাজির আইনজীবীরা সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘বইয়ের সাথে সমাজের একটি সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন না করা হলে এই মামলা ধোপে টিকবে না। এই কারণেই আইনজীবীরা জনমানুষের নৈতিকতার উপরে আঘাত নিয়ে মামলাটি সাজিয়েছে।’

লেখক আহমেদ নাজির এই রায়ে মিশরের অন্যান্য লেখক এবং বুদ্ধিজীবীরা ভীতির মুখে পড়েছেন। তাদের ভয়, ভবিষ্যতে হয়তো আরও মানুষকে এইভাবে জেল দেয়া হতে পারে।
জেএইচ