আল আকসা মসজিদ বন্ধ করার জের ধরে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি যুবকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত চলছে। অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে কট্টর এক ইহুদি রাব্বি (ধর্মযাজক) গুরুতর আহত হওয়ার পর এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার আল আকসা মসজিদের কাছে বন্দুকধারীর গুলিতে ইয়েহুদা গ্লিক নামের এক ইহুদি রাব্বি গুরুতর আহত হন। এ সময় আল আকসার বাইরে ইহুদিরা সমাবেশ করছিল। এ ঘটনার পর আল আকসা মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। খবর আল জাজিরার।
এদিকে, আল আকসা বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাকে যুদ্ধের শামিল বলে ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আল আকসা বন্ধ করার মানে এই পবিত্র মসজিদ, ফিলিস্তিনি, আরব বিশ্ব এবং পুরো মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, ইহুদি রাব্বিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হিজাজি নামের ৩২ বছর বয়সী ওই ফিলিস্তিনি যুবক দীর্ঘ ১১ বছর ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ছিলেন। বেশিরভাগ সময় তাকে একাকী এক সেলে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিদশা থেকে কিছুদিন আগে তিনি মুক্তি পান।
গুলিবিদ্ধ ইহুদি রাব্বি ইয়েহুদা গ্লিক মার্কিন বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক। তিনি আল আকসায় ইহুদিদের উপাসনার সুযোগ তৈরির জন্য মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে লবিং করে থাকেন।
মুসলমানদের নিকট তৃতীয় মর্যাদাবান মসজিদ হচ্ছে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা। মসজিদ গ্রাউন্ডসহ আশপাশের এলাকাটি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকটও পবিত্র বলে বিবেচিত। এলাকাটিকে ইহুদিরা 'টেম্পল মাউন্টেন' বলে ডাকে। সেখানে অমুসলিমদের পরিদর্শনের সুযোগ থাকলেও ইহুদিদের প্রার্থনা নিষিদ্ধ।
ইসরায়েলি সরকার চাচ্ছে আল আকসাকে সব ধর্মের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে। ফিলিস্তিনিরা এই সিদ্ধান্তকে যেকোন মূল্যে প্রতিহত করবে বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর তৎপরতা সেখানে ইহুদিদের অনুপ্রবেশ ঘটানোর অপপ্রয়াস বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা।
এসএমএ





