সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে নিয়োজিত আল কায়েদা ও আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপের আহত যোদ্ধাদের সেবা দেয়া হচ্ছে ইসরায়েলের হাসপাতালগুলোতে। আমেরিকার প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এই চমকপ্রদ খবর দিয়েছে ওয়ার্ল্ডবুলেটিন।

আসাদ বিরোধী আল কায়েদা যোদ্ধা এবং আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টের যোদ্ধাদেরকেই মূলত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে ইসরায়েল। এজন্য সিরিয়া সংলগ্ন গোলান মালভূমির সীমান্তও খোলা রেখেছে ইসরায়েল।

সুন্নী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করার কারণ তারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি বাশার সরকার ও বাশার সরকারের সহযোগী লেবাননের শিয়া যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়ছে। আর বাশার সরকার ও হিজবুল্লাহ উভয়েই ইরানের সহযোগী ও মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাই ইসরায়েল চায়, আল কায়েদা ও সিরিয়ার সুন্নী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মাধ্যমে আসাদ সরকারের পতন ঘটাতে। আর এটি হলে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শক্তিহারা হয়ে পড়বে।

ইসরায়েলের প্রাক্তন সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আমোস ইয়াদলিন, যিনি এখন দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইসাক হেরজোগের জায়োনিস্ট ইউনিয়ন দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, জায়োনিস্ট ইউনিয়ন ও এর জোট জয়ী হলে ইয়াদলিন হবেন নতুন সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ইয়াদলিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, "সুন্নী ইসলামপন্থীদের থেকে বাশার সরকার ও হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।" যদিও তিনি তার বক্তব্যে সুন্নীদেরকেও ইসরায়েলের শত্রু বলেই আখ্যায়িত করছেন। এর মানে ইসরায়েল কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাচ্ছে।

ইসরায়েল সংলগ্ন সিরিয়ার গোলান মালভূমির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে আসাদ বিরোধী গ্রুপগুলো। তাই এই এলাকায় কোন বিমান হামলা চালায় না ইসরায়েল। ইয়াদলিন বলেন, এর মাধ্যমে তারা (সুন্নীপন্থী যোদ্ধারা) বুঝতে পারবেন কে তাদের প্রকৃত শত্রু (অর্থ্যাৎ এর মানে তিনি বুঝাচ্ছন- ইসরায়েল নয়, আসাদ সরকারই সুন্নীদের প্রধান শত্রু)।

এই খবর ফাঁস হওয়ার মাধ্যমে আসাদ প্রশাসনের এই অভিযোগ আরও জোরদার হবে যে, বিদ্রোহীদের পিছনে ইসরায়েলের ইন্ধন রয়েছে। সিরিয়ায় আসাদ সমর্থকদের মধ্যে এ ধরনের একটি কৌতুকও প্রচলিত হয়েছে যে, 'বিদ্রোহীদের বিমান বাহিনী নেই কে বলেছে? ইসরায়েলের বিমান বাহিনীই তো বিদ্রোহীদের বিমান বাহিনী।'

ইসরায়েল যদিও আল কায়েদাকে সহায়তার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। উল্টো ইরানের দিকে ইঙ্গিত করে ইসরায়েল বলছে, গোলান সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহকে দিয়ে একটি শক্তিশালী জোন প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইরান।

আল কায়েদার আহত যোদ্ধাদের সেবা দেয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেন, "তাদের কাছে আমরা জানতে চাই না তারা কারা! তারা আসে আমরা তাদের সেবা দিই। চিকিৎসার পর তারা আবার সীমান্ত পার হয়ে চলে যান।"

এমএ