ভারতের মুম্বাইয়ে চন্দ্রভান সান্যাপ নামে এক ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। মুম্বাইয়ের একটি আদালত শুক্রবার এ রায় দেয়। খবর এনডিটিভির।

রায়ে বিশেষ বিচারক ব্রুশালি জোশি বলেন, মামলাটির ধরন খুবই বিরল প্রকৃতির। অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হল… তাকে মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে।’

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এস্থার আনুহা নামে এক সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে চন্দ্রভানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। গত বছরের ১৬ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের প্রান্তে কাঞ্জুরমার্গ এলাকা থেকে ২৩ বছর বয়সী টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেস-এর ওই কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

চলতি বছরের ৩ মার্চ নাশিক থেকে চন্দ্রভানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে এস্থারকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। গত মঙ্গলবার তাকে ওই মামলায় অভিযুক্ত করে আদালত।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ক্রিসমাসের ছুটি শেষে বিজয়দা থেকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওয়ানা হয় এস্থার। ৫ জানুয়ারি সকালে এস্থার কুরলার লোকমানয় তিলক টার্নিমাসের রেলস্টেশনে পৌঁছালে ট্যাক্সি ড্রাইভার চন্দ্রভান তাকে হোস্টেলে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে।

চন্দ্রভানের কথামত এস্থার তার সঙ্গে গেলে দেখতে পায় চন্দ্রভানের কোনো ট্যাক্সি নেই। এ সময় চন্দ্রভান থাকে মোটরসাইকেলযোগে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে।

মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় কাঞ্জুরমার্গের কাছে হাইওয়েতে পেট্রোল নেওয়ার কথা বলে তা থামায় চন্দ্রভান। কুয়াশাময় শীতের সকালে ৩৯ বছর বয়সী চন্দ্রভান এস্থারকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এস্থারকে ধর্ষণ ও হত্যা করে চন্দ্রভান।

পরবর্তী সময়ে রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চন্দ্রভানকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ভারতের দিল্লিতে এক প্যারামেডিকেল ছাত্রীকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। সেখান থেকে দেশটিতে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জোরালো হয়। অবশেষে ভারত সরকার ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পাস করে।

কেএইচ