প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ তপন রায় চৌধুরী আর নেই। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের বাড়িতে ৯০ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
তপন রায় বিগত দেড় বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, কন্যা ও নাতিকে রেখে গেছেন তিনি।
তার মৃত্যুর সংবাদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছলে শিক্ষামহলে শোকেয় ছায়া নেমে আসে।
তপন রায়ের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রাজা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘গত সোমবার মস্তিষ্কে আরেকবার রক্তক্ষরণ হলে তপন রায় চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। তখনই চিকিৎসকরা তার ব্যাপারে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং অনর্থক তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করার কথাও বলেছিলেন তারা।
রাজা দাশগুপ্ত আরো বলেন, ‘অসুস্থতার খবরে তপন রায় চৌধুরীর কন্যা জাপানের টোকিও থেকে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, যিনি নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় তপন রায় চৌধুরীর পাশেই ছিলেন।’
তপন রায় ভারতীয় ইতিহাসবেত্তা, যিনি ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনার জন্য প্রসিদ্ধ। তিনি দীর্ঘকাল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় ইতিহাস ও সভ্যতা বিষয়ে শিক্ষকতা করেন।
১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের বরিশালের কীর্তিপাশায় জন্মগ্রহণ করেন তপন রায়। সেখানেই তার স্কুল জীবন অতিবাহিত হয়। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ছেড়ে তারা ভারতে চলে যান। অতঃপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন এবং উভয বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি, ফিল, ডিগ্রি লাভ করেন।
তপন রায় পরবর্তী সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি, লিট, ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি, লিট, উপাধি প্রদান করে।
জীবনের শুরু থেকেই তপন রায় চৌধুরী শিক্ষকতাকে জীবিকা হিসাবে গ্রহণ করেন। বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপনা করেছেন। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় তার বহু গ্রন্থ এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৯ সালে কলকাতার পাক্ষিক দেশ পত্রিকায় তার আত্মজীবনী ধারাবাহিকভাবে মূদ্রিত হয়।
তপন রায়ের লেখা গ্রন্থ ইউরোপ রিকনসিডার্ড ১৯৮৭ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হয়। ‘রোমন্থন ও ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা’ তার লেখা প্রথম বাংলা বই। ইতিহাস বিষয়ে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন।
জেএ





