হিন্দুদের ধর্মাবলম্বীদের দূর্গা পূজার বিশেষ একটি পূজা কুমারি পূজা। কিন্তু এ নিয়ে প্রতিবারই সমস্যায় পড়তে হয় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের। কারণ কুমারি পূজায় যে কুমারি মেয়েকে পূজা করা হয় তাকে দেবী মেনেই পূজা করা হয় ফলে এই কুমারি মেয়েদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিয়ে হয় না।
আর এ সমস্যার কারণে এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালনা জেলায় টাকার লোভ দেখিয়ে একটি গরীব মুসলিম পরিবারের মেয়েকে কুমারি পূজার দেবী বানাচ্ছে স্থানীয় ব্রাক্ষ্মনরা। যদিও এ পূজার জন্য ব্রাক্ষ্মান ঘরের মেয়ে অত্যাবশ্যকীয়, তা না হলে পূজা হবে না।
যে মেয়েটিকে কুমারি পূজার দেবী বানানো হচ্ছে তার নাম বর্ষা খাতুন। বর্ষা পঞ্চম শেণ্রীর ছাত্রী। বর্ষার মা ফিরোজা বিবিকে এ প্রস্তাব দেন কালনার কাঁসারিপাড়ার এক চিকিৎসক। যার নাম ষষ্ঠী মল্লিক।
ফিরোজা বেগম বলেন, মেয়ের চিকিৎসা করানোর জন্য ডাক্তার বাবুর কাছে যেতাম। টাকার জন্য ঠিক মতো মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারিনা। ডাক্তার বাবু তখন আমাকে এ প্রস্তাব দেন। আমি ভেবে পাইনি কি করবো। আমি আমার স্বামীকে জানাই। এরপর আমার স্বামী আমার ভাসুর ও শ্বশুরকে জানালে আমার ভাসুর রাজি হয়ে যেতে বলেন।
একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ষষ্ঠী মল্লিক। আর এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দূর্গাপূজার আয়োজন করা হয় প্রতিবার।
ষষ্ঠী মল্লিক বলেন, এ মেয়েটিকে দেখেই আমার পছন্দ হয়েছে। তাই আমি তার মা’কে এ প্রস্তাব দিয়েছি এবং তাদের পরিবারও রাজি।
পূজায় ব্রাক্ষ্মন মেয়ে অত্যবশ্যকীয় জেনেও এ কাজ কেন করলেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ধর্ম আলাদা হলেও ভগবান তো একজনই।
এ খবরটি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো খুবই খুশির সাথে ফোলাও করে প্রচার করছে। মুসলিম মেয়েকে হিন্দুদের দেবী বানানোতে হিন্দুরা খুব খুশি হয়েছে বলেও জানানো হচ্ছে। সূত্র: এই সময়।
ইআর





