ব্রুনো মূলত ইতালির একটি দ্বীপ। ভেনিস থেকে নৌকায় এখানে পৌঁছাতে গেলে মাত্র ৪০ মিনিট সময় লাগে। এটি একটি পুরোনো মাছ ধরার গ্রাম। রোমের রাজত্বকাল থেকে এই স্থানটি মাছ ধরার একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এই দ্বীপ শহরটি মূলত তার রং ও কারুকার্যের জন্য বিখ্যাত। এই শহরেরে বাড়িগুলো এতটাই সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর যে মানুষ এই শহরটি দেখতে দেশ দেশান্তর থেকে ছুটে আসে।
কিন্তু শহরের এই রঙিন বাড়িগুলো নিয়ে রহস্য ও রূপকথার শেষ নেই। রঙ-বেরঙের আলপনার বাড়ি, তার সাথে গা ঘেষে চলে গেছে নদী। সেই নদীর পানিতে প্রতিফলিত হয়েছে বাহারি রঙ। যেন পানির নিচটা রঙ করা। গোধূলি বেলায় এর সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। চোখে না দেখলে মনে হবে কোন শিল্পী হয়ত রঙ তুলির আঁচড়ে পুরো শহরটি এঁকে রেখেছেন।
ষোড়শ শতকের প্রথমদিকে নিকোলাস কোপার্নিকাস পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে সেইস্থানে সূর্যকে বসান। তিনি তাঁর মতবাদে বলেন, “সকল গোলক সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে এবং এজন্য সূর্যই মহাবিশ্বের কেন্দ্র।” এই মতবাদ ‘সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ’ বলে পরিচিত। এই মতবাদকে প্রথম দিকে যারা সেসময় সমর্থন জানিয়ে ছিলেন তাদের একজন হলেন এক ইতালিয়ান দার্শনিক জিওর্দানো ব্রুনো। মূলত জিওর্দানো ব্রুনোর নাম অনুসারে এই গ্রামের নাম রাখা হয়।
বারবেইন আক্রমণের সময় আল্টিনো থেকে পালিয়ে যাওয়া রোমানরা এ নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলো। প্রথমে এখানকার ঘরগুলো বেতদিয়ে বুনে তার উপর কাঁদা মাটির প্রলেপ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দারা কাঁচা মাটির ঘরেই সুন্দর নকশা করতো।
পড়ে এই ঘরগুলো ইট দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে, এবং তখন এখানকার বাসিন্দারা তাদের দেয়ালে উজ্জ্বল রঙের সঙ্গে পেইন্টিং করতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে গ্রামটি একটি রঙ্গিন শহরের রূপ নেয়।
আবার এমন গল্পও কথিত আছে যে, জেলেরা সমুদ্র থেকে ফিরে এসে অধিক কুয়াশায় তারা জেনো তাদের বাড়ি চিনতে পারে, তাই তারা বিভিন্ন রং দিয়ে তাদের বাড়ি পেইন্টিং করতে শুরু করে।-সূত্র: এমেইজিং প্ল্যানেট।
এসএইচ





