আদালতের এজলাসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মুরসির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত গোটা মুসলিম বিশ্ব।
ফিলিস্তিনের প্রতি ভিন্নরকম টান ছিল মোহাম্মদ মুরসির। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে সবসময় সোচ্চার ছিলেন মিসরের এই সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাই মুরসির মুত্যুতে ফিলিস্তিনবাসী বেশি শোকাহত।
ইসলাম ধর্মের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পবিত্র মসজিদ-আল-আকসা বা বায়তুল মোকাদ্দাসে সোমবার (১৭ জুন) রাতেই মোহাম্মদ মুরসির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা আল-আন অনলাইনের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ইতিমধ্যে গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনি ইস্যুতে মুরসির অবস্থানের কথা স্মরণ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
গাজা শাসন করা সংগঠনটির সোমবারের বিবৃতিতে উপত্যকাটির এক দশকের অবরোধ তুলে নিতে মুরসির অবস্মরণীয় ও সাহসী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন মুরসির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি যুবকদের কয়েকটি সংগঠন মুরসির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৩দিনের শোক ঘোষণা করেছে।
গতকাল (১৮ জুন) মঙ্গলবার থেকে ৩দিন শোক পালন করছেন তারা। মঙ্গলবার গাজা, পশ্চিমতীরসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। অকৃত্রিম এই বন্ধুকে হারিয়ে শোকে মূহ্যমান ফিলিস্তিনবাসী।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এতে পদচ্যুত হন হোসনি মোবারক। এরপর মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ব্রাদারহুডের হাফেজ মোহাম্মদ মুরসি।
কিন্তু ২০১৩ সালে গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
২০১৩ সালে মুরসির নেতৃত্বাধীন মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয়। এর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মুরসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার করেছেন। আদালত হাফেজ মোহাম্মদ মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।
এমবি





