গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ৪২(এ) এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দিতে ব্যর্থ হওয়ার ২৬১ জন পাকিস্তানী সাংসদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। যার মধ্যে দেশটির ৭ জন সিনেট সদস্যও রয়েছে।

গত সোমবার তাঁদের বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে তাঁরা সম্পদের বিবরণী দাখিল করলে এই বরখাস্ত প্রত্যাহার করা হবে।

আইন অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের সম্পদের বিবরণ দিতে বলা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে যাঁরা তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্টের ৭ জন সিনেটর, জাতীয় পরিষদের ৭১ এমএনএ, পাঞ্জাবের ৮৪, সিন্ধুর ৫০, খাইবার পাখতুনখাওয়ার ৩৮ ও বেলুচিস্তানের ১১ এমপির সদস্যপদ বাতিল করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে তাঁদের বরখাস্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ইসিপি।

এর আগে সম্পদের তথ্য গোপন করায় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গত জুলাইতে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। গত বছর কমিশনের কাছে সম্পদের তথ্য জমা দিতে না পারায় ৩৩৬ আইনপ্রণেতাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর গতকাল মঙ্গলবার ৮৪ জন আইনপ্রণেতাকে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে বসতে বাধা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৭৪ জন নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) আইনপ্রণেতা।

মন্ত্রী ইকবাল আহমাদ চানদার ও চৌধুরী শফিককেও প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনে বসতে দেওয়া হয়নি। বাকি ১০ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির ছয়জন, পাকিস্তান পিপলস পার্টির দুজন ও পাকিস্তান মুসলিম লীগ-জিয়ার দুজন।

এ পর্যন্ত পাকিস্তানের জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৯০৫ জন আইনপ্রণেতা তাঁদের সম্পদের বিবরণ জমা দিয়েছেন।
জেড