নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশী-আমেরিকান শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন রাব্বীকে (১৯) ফিরে পাওয়া গেছে। রাব্বী নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) ভোরে তাকে সিটির ম্যানহাটানাস্থ প্রেসব্রেটেরিয়ান হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই হাসাপাতালে সে ভর্তি ছিলো।

উল্লেখ্য, সিটির ব্রঙ্কেসর ব্রীক্স এভিউনিতে বসবাসকারী রাব্বী গত ২৫ ফেব্রুয়ারী নিখোঁজ হন। ব্রঙ্কসের ডিষ্ট্রিক্ট ৭৫-এর লুইস এন্ড ক্লার্ক স্কুলের ইলেভেন গ্রেডের ছাত্র রাব্বী গত কয়েক বছর ধরেই মানসিক বিষাদগ্রস্ততায় ভুগছে। তার জন্ম বাংলাদেশের বরিশালে। ছোট বেলায় বাবা-মা’র হাত ধরে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। খবর ইউএনএ’র।

কমিউনিটির পরিচিত মুখ, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সদস্য ও সম্মিলিত বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি এবং তানভীর হোসেন রাব্বীর পিতা আলতাফ হোসেন বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদককে জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ জানায় যে রাব্বীর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং সে ম্যানহাটানের প্রেসব্রেটেরিয়ান হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে সাথে সাথে হাসপাতালে গিয়ে তাকে চিকিৎসাধীন এবং ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

রাব্বীকে কিভাবে পাওয়া যায় এ ব্যাপারে আলতাফ হোসেন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে যে, রাব্বীকে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ওয়াল স্ট্রীট এলাকায় তাকে পাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৪দিন কোথায়, কিভাবে, কি খেয়ে ছিলো সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

তিনি জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক নিরীক্ষা-পরীক্ষার পর রাব্বীকে ছেড়ে দেয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে বাসায় ফিরেছি। রাব্বী যে পোশাক পড়ে বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো, সেই পোশাকেই তাকে পাওয়া গেছে। বাসায় ফিরে রাব্বী ঘুমুচ্ছে বলে আলতাফ হোসেন জানান।

আলতাফ হোসেন তার পুত্রকে ফিরে পাওয়ায় মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি টাইম টেলিভিশন সহ সকল মিডিয়া প্রতিনিধির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরো উল্লেখ্য, তানভীর হোসেন রাব্বী নিখোঁজ হওয়ার পর এনওয়াইপিডি’র পক্ষ থেকে লিফলেট ও হ্যান্ড বিল বিতরণ করা হয়। তার নিখোঁজের খবরটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার টাইম টেলিভিশনের রাত ১০ খবরে প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রচার করা হয়।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী রোববার অপরাহ্নে থেকে তানভীর হোসেন রাব্বী নিখোঁজ ছিলো। ঐদিন দুপুুরে বাবার সাথে তাদের বাসার অদুরেই সেলুনে তার চুল কাটার কথা ছিলো। কিন্তু কি মনে করে চুল কাটতে রাজী না হওয়ায় বাবা আলতাফ হোসেনকে সেলুনে রেখেই বাসায় চলে আসে।

পরবর্তীতে আলতাফ হোসেন বাসায় ফিরে দেখেন রাব্বী বাসায় ফিরেনি। চলতে থাকে খোঁজাখুজি। মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত রাব্বীর কোন খোঁজ না পেয়ে রাব্বীর পরিবারের পক্ষ থেকে ৯১১-এ কল করে পুলিশকে ঘটনা জানানো হয়।


জানা গেছে, কয়েক বছর আগে রাব্বীর আগের স্কুলের দুই গ্রুপের মারামারি ঘটনার পর তানভীর হোসেন রাব্বী মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে এবং তারপর থেকেই কম কথা বলতে থাকে। এজন্য তার চিকিৎসা চলছে। ব্যক্তিগতভাবে রাব্বী কোন অঘটনের সাথে জড়িত ছিলো না এবং বাসা আর স্কুল ছাড়া বাইরে খুব একটা সময় কাটাতো না। তবে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হওয়ার পর রাব্বী মাঝে মধ্যে বাইরে গেলে একটু দেরি করে বাসায় ফিরতো।

সালাউদ্দিন আহমেদ/জেড