ভারতের মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন বা মিম প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরাইল সফরের সময় অধিকৃত এলাকায় না যাওয়ায় পশ্চিম তীর এবং গাজায় ইসরাইলি দখলদারিত্ব শক্তিশালী হবে।
গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াইসি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের ইসরাইল সফরের সময় অধিকৃত এলাকায় যাচ্ছেন না, যেখানে আগে ভারতীয় নেতারা গিয়েছেন। তিনি বলেন, যখনই ভারতের কোনো কর্মকর্তা ইসরাইল সফরে গেছেন, তাঁরা বলেছেন ইসারাইলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে কিন্তু আমরা ফিলিস্তিনকেও আমাদের সমর্থন দিয়েছি। আর এজন্যই বলছি প্রধানমন্ত্রী মোদি ইসরাইল সফরের সময় অধিকৃত এলাকায় না যাওয়ায় পশ্চিম তীর এবং গাজায় ইসরাইলি দখলদারিত্ব শক্তিশালী হবে।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসির অভিযোগ, ‘বর্তমান সরকারের আমলে ফিলিস্তিন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু ভারতের বিগত সরকারগুলোর কাছে এমনটি ছিল না। দেশের পূর্ববর্তী সরকারগুলোর কাছে ফিলিস্তিন পছন্দের ছিল, এটা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল।’
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় ও তিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত সিং (২০০০ সালে), এস এম কৃষ্ণা (২০১২ সালে) এবং সুষমা স্বরাজ (২০১৬ সালে) ইহুদিবাদী ইসরাইল সফরের পাশাপাশি ফিলিস্তিনও সফর করেন।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘ইসরাইল থেকে যেসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে- যেমন সীমান্তে সেন্সর, ড্রোন ইত্যাদি দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম নয়। তার প্রশ্ন, অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার ওই সকল কোম্পানিকে কেন বরাত দিয়েছে যাদের আগেই ব্ল্যাক লিস্টেড করে দেয়া হয়েছিল?’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩ দিনের জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইল সফরে গেছেন। তিনিই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ইসরাইল সফরে গেলেন।
ইসরাইলি এক সংবাদপত্রে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সফরের ফলে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।’
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ এক বৈশ্বিক হুমকি। এ থেকে ভারত ও ইসরাইল কেউই নিরাপদ নয়। ভারত ও ইসরাইল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগের চেয়ে বেশী সহযোগিতা করতে পারে এবং পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।’ তবে সন্ত্রাসবাদকে কোনো বিশেষ ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ, বিগত ১৮ বছর ধরে ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামো অনেকাংশে ইসরাইল নির্ভর। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় দ্রাস এবং বাটালিক সেক্টরে পাকিস্তানি সেনা ঢুকে পড়ার পরে ইসরাইলের কাছ থেকে ব্যাপক সহায়তা নেয় ভারত। মুম্বাই হামলা এবং সংসদ ভবন আক্রান্ত হওয়ার পর ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছ থেকে ভারত সাহায্য নিয়েছিল।
একটি সূত্রে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর ইসরাইল সফরে সাইবার প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ক্ষেত্রে ভারত-ইসরাইল সহযোগিতার কথা ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ইসরাইলি সংস্থা ভারতকে মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার, ড্রোন এবং যোগাযোগের প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। গোয়েন্দা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ইসরাইল সফর প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সিনিয়র মুখপাত্র অজয় মাকেন বলেন, ‘গত তিন বছরের বেশি সময়ে ৬৪ বার বিদেশ সফরের মধ্যে দেশের কোনো বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করার পরিবর্তে টিভি শো’য়ের মাধ্যমে তা ঘরোয়া দর্শক পর্যন্ত নিবদ্ধ রয়েছে। কেবল সময়ই বলবে ৬৫ তম সফরে ভারতের কী ধরণের লাভ হবে।’
‘যদি ট্র্যাক রেকর্ড দেখা যায় তাহলে বিগত সফরে ভারতের জন্য একটুও ফায়দা হয়নি’ বলেও অজয় মাকেন বলেন।
এমবি





