ইয়েমেনে শিশু হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদিকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ। হুদি বিদ্রোহীদের দমনের নামে সৌদি মূলত ইয়েমেনে নিষ্পাপ শিশু হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় সংস্থাটি।

জাতিসংঘের এক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে এই তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা। সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, বিশ্বে শিশু এবং সশস্ত্র সংঘাত নিয়ে তৈরি করা জাতিসংঘের এক রিপোর্ট যেটা 'নিরাপত্তা পরিষদে' গত ১৯ জানুয়ারি গিয়েছিল কিন্তু এ সম্পর্কে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয় নি।

বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তৈরি করা জাতিসংঘের এই রিপোর্টের উদ্বৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, শুধু ২০১৭ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে ৬৮ শিশুকে হত্যা করে সৌদি। যেখানে আহত হয় আরও প্রায় ৩৬ শিশু।

জাতিসংঘে এই রিপোর্টে আরও বলা হয়, প্রায় প্রতিদিন ২০টি করে হামলা চালিয়েছে সৌদি। যেগুলোর লক্ষ্য ছিল শুধু স্কুল এবং বিভিন্ন বাড়ি।

সৌদির পাশাপাশি কিছু আরব দেশ এই হামলা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে, যখন ইয়েমেনে হুদি বিদ্রোহীরা ক্রমান্বয়ে দখলের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।

সৌদির এই হামলা প্রথমে শুধু বোমা নিক্ষেপ করার মধ্যে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ইয়েমেনে হামলাসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করে, যেটা ইয়েমেনদের মানবিক সহায়তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

এই বিষয়ে সৌদির ভাষ্য হচ্ছে তারা সাবেক ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদির অনুরোধে হুদিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে।

হুদি বিদ্রোহ:

জাতিসংঘের এই রিপোর্টে সৌদির পাশাপাশি হুদি বিদ্রোহীদেরও কথা বলা হয়। সেখানে বলা হয়, হুদি বিদ্রোহীদের হামলায় গত বছরের একই সময়ে প্রায় ১৮ শিশুর মৃত্যু হয় এবং আহত হয় ২৯ শিশু।

হত্যার পাশাপাশি শিশুদের যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে হুদি বিদ্রোহীরা এবং ইয়েমেন ন্যাশানাল আর্মি ভূমিকা পালন করছে বলেও জানানো হয় রিপোর্টে। ইয়েমেনের এই সংকটকে পৃথিবীতে মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ।

ইয়েমেনে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) এর এক মূখপাত্র জানায়, "হাজার হাজার ইয়েমেনিদের সহায়তা প্রয়োজন। এই সংঘাতের প্রভাব শুধু শিশুদের ওপর পড়ছে না বরং ইয়েমেনের মোট জনগোষ্ঠির ৭৫ শতাংশের ওপর এর প্রভাব পড়ছে"

জাতিসংঘ শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF) এর মতে, ২০১৫ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ৫ হাজারের বেশি শিশু নিহত ও সংঘর্ষে আহত হয়েছে। অর্থ্যাৎ পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন ৫টি করে শিশু এই হামলার শিকার।

ইউনিসেফ আরও বলেন, সম্প্রতি কলেরাসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদূর্ভাব ঘটায় এই মুহূর্তে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিশুর মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

জেড