গত ১ বছর ধর্ষণের বিচারের জন্য মানুষের ধারে ধারে ঘুরেছে ধর্ষিতা কিশোরী। গেলো পুলিশের কাছে কিন্তু মামলা নেয়নি পুলিশ।
ধর্ষক বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা হওয়ায় উল্টো তার নির্দেশে ধর্ষিতা কিশোরীর বাবাকে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানায় পুলিশের অত্যাচারে গত সোমবার মারা যায় ধর্ষিতার বাবা। তার পরেই টনক নড়ে সুশীল সমাজের ও ক্ষমতাসীনদের।
অবশেষে শুত্রবার উত্তর প্রদেশের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিধায়ক কুলদীপ সিং সেনগারকে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। রাজধানী লক্ষ্ণৌর সিবিআই দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুলদীপ সিং সেনগারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুনে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা মিলে উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণ করেন। এরপর নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বিজেপি বিধায়ক, তাঁর ভাইসহ সঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
তবে গত প্রায় এক বছরে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এরপর ওই কিশোরী বিচারের আশায় প্রশাসনের কাছেও যায়। তবে কোনো সাহায্য পায়নি।
৮ এপ্রিল উত্তর প্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্ণৌর বাসভবনের সামনে এসে প্রতিবাদে বসে ওই কিশোরী এবং তার পরিবার। একপর্যায়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। পরে পুলিশ এসে সরিয়ে নেয় ওই কিশোরীকে।
ওই কিশোরী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। বরং প্রতিনিয়ত তাঁকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছেন বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গীরা। ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা না হলে সপরিবারে আত্মহত্যা করবে বলেও হুমকি দেয় ওই কিশোরী।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, ওই কিশোরীর বাবাকে প্রচণ্ড মারধর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৯ এপ্রিল তিনি মারা যান।
এই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো উত্তর প্রদেশ। পরে রাজ্য পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন পুলিশ কনস্টেবলকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধায়ককে সিবিআই দপ্তরে ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, ভারতে ধর্ষণের বিচারের ক্ষেত্রে ধর্ষকের চেয়ে ধর্ষিতা বেশি হয়রানির শিকার হয়। তাকে কোনভাবেই সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয় না। যার কারণে বিচার না পেয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
এর আগে ২০১৬ সালে ভারতের ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ডে বলা হয়, ভারতে ধর্ষণের ঘটনা ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে ৮২ শতাংশ বেড়েছে। একই বছর থানায় প্রায় ৩৮ হাজার ৯৪৭টি ধর্ষণের অভিযোগ আসে পুরো ভারত জুড়ে।
জেড





