জানা গেছে, পাকিস্তান–এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত তিন দিন ধরে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের পরপরই পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের আকস্মিক তেহরান যাত্রা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে দুই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। একদল মনে করছেন, বেসামরিক পর্যায়ের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সেনাপ্রধানকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে অধিকাংশ সামরিক কৌশলবিদের ধারণা, আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির দিকেই এগিয়েছে এবং এখন একটি চূড়ান্ত নিরাপত্তা ও শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই এই জরুরি সফর।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল আসিম মুনিরের এই সফর চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সংকেত। এর আগেও তেহরান সফরে তিনি ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছিলেন। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব ইরানি সামরিক নেতৃত্বকে বোঝাতে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন একটি ব্যাপকভিত্তিক যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খসড়া চুক্তি ঘোষণার কাউন্টডাউন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে জেনারেল আসিম মুনিরের এই তেহরান সফরকে চুক্তির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: আল-জাজিরা
এস