নাসার স্যাটেলাইট থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করে গত ১৭ জানুয়ারি বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সঞ্চিত পানির খবর যারা পর্যবেক্ষণ করেন তাদেরকে প্রদান করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির হাইড্রোলজিস্ট জেমস ফেমিগলিটি এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন। গত সপ্তাহের এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাপক খরার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
জেমস ফেমিগলিটি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি আমাদের জন্য কৌশলগত রিজার্ভ। এটি আমাদের ব্যাকআপ। কিন্তু আমাদের ব্যাকআপও যখন ফুরিয়ে যাবে তখন আমরা কোথায় যাব?’
নাসার তথ্য প্রকাশের দিন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের গভর্নর জেরি ব্রাউন খরার ব্যাপারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়াবাসীকে পানির ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানোর জন্য আহ্বান জানান।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭টি অঞ্চলে ৬০ দিন ধরে পানির তীব্র  সঙ্কট বিরাজ করছে। আরো বেশি এলাকায় এ সঙ্কট তৈরি হবে। ইতিমধ্যে প্রধান পানি সরবরাহ কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, তাদের হাতে পর্যাপ্ত পানি নেই।
শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য নয় এমন দু:সংবাদ অন্যান্য এলাকার জন্যও রয়েছে। কৃষিতে পানির চাহিদা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শক্তি উতপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির সঙ্কট দেখা দিচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর এক বিলিয়ন মানুষ বা প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন নিরাপদ পানির সঙ্কটে ভুগছেন। ব্রিটেনেও পানির সঙ্কট বিরাজ করছে।
স্যাটেলাইটের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, উত্তর অক্ষাংশের এবং ক্রান্তীয় এলাকার দেশগুলো বেশি আদ্র রয়েছে। কিন্তু মধ্য অক্ষরেখার দেশগুলোতে পানির পরিমাণ কমছে।
ফিমিগলিটি বলেন, ‘আদ্র এলাকা দিন দিন আরো আদ্র হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আর্কটিকের মতো উচ্চ অক্ষাংশ এবং নিম্ন অক্ষাংশের ক্রান্তীয় অঞ্চল, মধ্য অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলগুলো দিন দিন আরো শুষ্ক হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র পানি সঙ্কট বিরাজ করছে। বাজে ব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত পানি ভোগের কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
শস্যে পানি সেচ, ব্যয়বহুল শহরে তৃষ্ণা নিবারণ, বিদ্যুত প্রকল্পে পানি সরবরাহ এবং তেল-গ্যাসের খনিতে পানি সরবরাহ একই ধরনের উতস থেকে হচ্ছে। সাথে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। এতে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাসীকে পানি নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করতে হবে। যেমনটি আগে কখনো করতে হয়নি।
এদিকে সঞ্চিত পানির পরিমাণ দিন দিন কমছে। ২০০৩ সাল থেকে সাত বছরে তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক এবং ইরান সংলগ্ন তাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর ১৪৪ কিউবিক কিলোমিটারব্যাপী সঞ্চিত পানি হারিয়েছে। মৃত সাগরেরও একই পরিমাণ পানি কমেছে।
পানি সঙ্কটের সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভূগর্ভস্থ পানির ৬০ শতাংশ কমে যাওয়া। কৃষকেরা অনাবৃষ্টির মুখোমুখি হয়ে পাম্প দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন করছে। ২০০৭ সালের অনাবৃষ্টির কারণে ইরাকের সরকার প্রায় ১০০০টি কূপ খনন করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস পাওয়ার পরিমাণ গত এক দশকের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি। স্যাটেলাইটের হিসাব মতে, প্রতিবছর ৫৪ কিউবিক কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পানি হারিয়ে যাচ্ছে।
পানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী হামলাসহ সম্ভাব্য হামলার সতর্ক বাণী করেছে।
২০১২ সালের এক প্রতিবেদন মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের পরিচালক সতর্ক করে বলেন যে, ভারত এবং আর কিছু দেশ যেভাবে অতি মাত্রায় পানি ভোগ করছে তাতে দ্বন্দ্ব সংঘাত হতে পারে।
অনেক দেশ আগামী ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ওইসব দেশ পানি সঙ্কটে ভুগবে, পানির মান নিম্ন পর্যায়ে চলে যাবে, বন্যা দেখা দেবে, বৃদ্ধি পাবে আঞ্চলিক উদ্বেগ। আর তখন বেকারত্ব বাড়বে, ক্ষুধা দারিদ্র্য বাড়বে। দেখা সন্ত্রাসী হামলা। এমনকি যুদ্ধও বাঁধতে পারে। সূত্র: গার্ডিয়ান
ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ