খুলে দেয়া হলো পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যের রাজধানী পেশোয়ারে রক্তে ভেজা সেই আর্মি পাবলিক স্কুলে আবার ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর গণহত্যার পর থেকে বন্ধ থাকা রাজ্যের সব ও দেশটির অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা হয়েছে। খবর ডননিউজ ও বিবিসির।

সোমবার নিহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি সমবেদনা ও স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে স্কুলটি খোলা হয়। এর আগে খাইবার পাখতুনখাওয়া রাজ্যের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরীফ।

সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরিফ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ভীতি দূর করতে তাদের সঙ্গে গল্প করেন তিনি।

নতুন বছরে স্কুলটির ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে আজ ১৪২ জন আসবে না। তারা আর কোনো দিনই আসবে না। গত ১৬ ডিসেম্বর তালেবানের বর্বর বন্দুক-বোমা তাদের পাঠিয়ে দিয়েছে চিরতরে না ফেরার দেশে।

ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা নিশ্চিতের শর্তগুলো পূরণ করতে পারেনি। কারণ সব প্রতিষ্ঠানের সেই সামর্থ নেই। ফলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই সোমবার থেকে খোলা হয়েছে অনেক স্কুল-কলেজ। আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা নিয়েই বিদ্যালয়ে পা রাখা শুরু করেছে খাইবারের শিশুশিক্ষার্থীরা। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে বাড়িতে বাড়িতে প্রার্থনা করছেন অভিভাবকরা।

ক্লাস শুরু হলেও অনেক অভিভাবকের মধ্যে এখনো ভীতি রয়ে গেছে। হামলায় এক ছেলে হারানো তুফাইল খাত্তাক জানান, তিনি তার অন্য সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন কিনা, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

তালেবান হামলায় তুফাইলের বড় ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র শেরশাহ (১৬) মারা যায়। তার ছোট ছেলে আহমেদ শাহ একই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। সে ওই ঘটনায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।

তুফাইল বলেন, 'তার (আহমেদ) মা তাকে স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছেন না।' তিনি জানান, সে এখনো গভীর শোকাহত এবং স্বাভাবিক হতে পারেনি।

ছেলের পড়ালেখার ব্যাপারে নিজেরা ভীত হলেও তার ছেলে আহমেদ শাহ এ ব্যাপারে অনেক সাহসী বলে জানিয়েছেন তুফাইল। তিনি জানান, আবারও একই শ্রেণীকক্ষে সহপঠীদের সঙ্গে বসা আহমেদের জন্য কষ্টদায়ক হলেও সে সব প্রতিকূল পরিবেশকে পেছনে ঠেলে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায়।

এখন পাকিস্তানবাসীর প্রত্যাশা এটাই সুন্দর এবং নিরাপত্তার সাথে যেন সকল শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতে পারে।

ইআর