আসন্ন ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মূল পর্বকে উপলক্ষ্য করে শেষ মুহুর্তের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ব্যস্ত কাঠমন্ডু। শনিবার সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে কাঠমন্ডুর রাস্তায় রাস্তায় ঝাড়ুদারদের সরব উপস্থিতি। রীতিমতো সাঁড়াশি অভিযান।
ধুলোবালির শহর হিসেবে খ্যাত কাঠমন্ডুতে দক্ষিণ এশিয়ার সরকার প্রধানরা এসে যেন আগের ধারণা না নিয়ে বরং একটি পরিচ্ছন্ন নেপালের চিত্র মাসনপটে ধারণ করে নেন, সেজন্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা নেপাল সরকারের।
শনিবার সকাল থেকেই কাঠমন্ডুর এক একটি সড়কে দলে দলে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেখা যায়। তাদের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তাদেরও দেখা যায়।
এছাড়া বিভিন্ন সড়কে নৈশবাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে ব্যাপকহারে। কাঠমন্ডুর রাস্তায় এর আগে কখনো এত বাতি ছিল না বলে জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ১৮তম সার্কের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হলেও আজ (শনিবার) প্রোগ্রামিং কমিটির ৪৯তম সভার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ফোরামের এবারের সম্মেলন।
এছাড়া, ২৩-২৪ নভেম্বর স্ট্যান্ডিং কমিটির (পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের) ৪১তম সভা, ২৫ নভেম্বর কাউন্সিল অব মিনিস্টারস (পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের) এর ৩৬তম সভা অনুষ্ঠিত হবে । প্রোগ্রামিং কমিটির সভায় মহাপরিচালক (সার্ক ও বিমসটেক), স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় পররাষ্ট্র সচিব এবং কাউন্সিল অব মিনিস্টারস এর সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন।
এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘Deeper Integration for Peace and Prosperity’অর্থাৎ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর আন্ত:সম্পর্ক এবং বহুমাত্রিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে কাঠমান্ডু ঘোষণায়।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে থাকবে, যুবশক্তির উন্নয়ন, দারিদ্র দূরীকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার (Connectivity) উন্নয়ন, সাফটা ও সার্ভিস সেক্টরে সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ
এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো: শহিদুল হক আজ দুপুরে নেপাল এসে পৌছার কথা রয়েছে। যুগ্ম সচিব পর্যায়র বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় কাঠমন্ডুর রেডিসন হোটেলে সার্ক মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের অগ্রগতি জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবারের সম্মেলনে সড়ক ও রেলপথে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ বাড়াতে ঘোষণা দেয়া হবে। আর এ লক্ষ্যে দুটি রূপরেখা চুক্তি সই হওয়ার কথাও রয়েছে।
এছাড়া, আজ শনিবার ৪৯তম সার্ক প্রোগামিং কমিটির বৈঠককে উপলক্ষ্য করে সদস্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এরই মধ্যে কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সার্ক অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের অভ্যর্থনা জানাতে কেউ না থাকলেও গতকাল সার্ক সচিবালয় এবং নেপাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সকাল থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গতকাল বিকেলে থেকে রেডিসন হোটেলে মিডিয়া সেন্টার যাত্রা শুরু করেছে। এরই মধ্যে সদস্য দেশগুলো থেকে আসা গণমাধ্যমকর্মীরা সম্মেলনের এক্রেডিটেশন কার্ড সংগ্রহ শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, রোববার শুরু হবে সার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক এবং পরদিন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। ফলে এখন দম ফেলানোর একদম সময় নেই। সূত্র আরও জানায়, বহুমাত্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে যে দুটি রূপরেখা চুক্তি সই হতে পারে তার আওতায় একটি দেশের পণ্য ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও ট্রেন অন্য দেশে যাবে। তেমনি অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে যাওয়ারও সুযোগ থাকছে। মোটরযান চুক্তিতে যান চলাচলের জন্য মাশুল নেয়া হবে। আর ট্রেন চলাচল চুক্তিতে সদস্য দেশগুলো একটি অভিন্ন টিকিট চালু করবে।
নেপালে সার্ক সচিবলায়রে এক কর্মকর্তা জানান, মোটরযান ও রেল চুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি চুক্তি সইয়ের কথা রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের চুক্তি সইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বৈঠক হয়ে থাকে। এবার সম্মেলনের আগে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সুযোগ নেই। ফলে সচিবদের নেতৃত্বাধীন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে এই চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
কেবি





