পাকিস্তানের সিনেট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান আরও মজবুত হল। সিনেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এবার সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাবে দলটি।

শনিবার পাঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান ও কেন্দ্রনিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় এলাকায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিনেট নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের ১০৪টি আসনের মধ্যে ৫২ আসনের ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে পিএমএল-এন ১৫, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ১২ ও ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পেয়েছে ছয়টি আসন।

এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজের অবস্থান সংহত করল মুসলিম লীগ। দলটির রাজনৈতিক ঘাঁটি পাঞ্জাবে মোট ১২ আসনের মধ্যে ১১টিতেই জয় পেয়েছে পিএমএল- এন। শনিবারের নির্বাচনে পর সিনেটে মুসলিম লীগের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩। মিত্র দলগুলোর কাছ থেকে আরও ২০ সিনেটরের সমর্থন পাবে দলটি। সিনেটে পিপিপির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ ও পিটিআই’র আসন ১০। পিএমএল-এনের জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে সিনেটের এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহায়ক হবে। ফলে চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে দল বিজয়ী হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলনেতা নওয়াজ শরিফের আবার দায়িত্ব নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নওয়াজ শরিফকে বরখাস্ত করেছিলেন আদালত। গত মাসে সর্বোচ্চ আদালত তাকে নিজ প্রতিষ্ঠিত দলটির দলীয়প্রধানের দায়িত্বে থাকারও অযোগ্য ঘোষণা করেন।

এদিকে পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম দলিত হিন্দু নারী হিসেবে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন কৃষ্ণা কুমারি কোহলি। গত মাসে ৩৯ বছর বয়সী কোহলিকে বিলওয়াল ভুট্টো জারদারির নেতৃত্বাধীন পিপিপির সিন্ধু প্রদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের ইতিহাসে এটাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব। সিন্ধুর থর এলাকার নানগারপারকার গ্রামে ১৯৭৯ সালে এক গরিব কৃষকের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন কোহলি। শিশুকালে এক ভুস্বামীর পরিচালিত জেলে তাকে তিন বছর বন্দি থাকতে হয়েছিল। সেখানে তার পরিবারের অন্যরাও বন্দি ছিলেন এবং দাস হিসেবে কাজ করতেন। ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হলেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান ও সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর সামাজিক আন্দোলনকারী হিসেবে পিপিপিতে যোগ দিয়ে থরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে শুরু করেন কোহলি। সূত্র: ডনের।

এসএম