বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, দুর্ঘটনায় আহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন সাকেত এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে এবং দুজন সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

হাইকমিশন আরও জানায়, আহতদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি উদ্ধার ও জরুরি সেবাকর্মীদের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মালব্য নগরের পাঁচতলা ‘ফ্লোরিশ স্টে’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ভবনটির বেজমেন্টে থাকা একটি রেস্টুরেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও আগুন পৌঁছে যায়।

এ ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন, যার ফলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোটেলটিতে অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় বেশি কক্ষ পরিচালনা করা হচ্ছিল। এছাড়া ভবনে মাত্র একটি প্রবেশ ও নির্গমন পথ থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা না হলেও এক কর্মীর দাবি, বিদ্যুতচালিত চুলা চালুর সময় আগুনের শিখা দেখা যায় এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও শোক জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এস