জামায়াতে ইসলামীসহ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সাথেই সুসম্পর্ক রাখতে তার দেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত দেবরিম ওজতার্ক।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত এ মন্তব্য করেন। গত ১৫ই জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভুত্থান সম্পর্কে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, শুধু বাংলাদেশ সরকার কিংবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীই নয় সব রাজনৈতিক দলের সাথেই সুসম্পর্ক রাখতে তুরস্ক আগ্রহী।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কয়েকজন শীর্ষ জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে কীনা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোন চিন্তা নেই তুরস্কের।

তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক এবং এদেশে তারা যা কিছু করছেন তা ভ্রতৃত্বসুলভ পরামর্শের অংশ হিসেবেই করেছেন বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।

বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত আন্তরিক এবং সৌহার্দপূর্ণ সসম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, যে কোন অপারাধেরই উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড তারা সমীচীন মনে করেননা।  ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে নীতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধীতা করে তারাও একই নীতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন।

অপর এক প্রশ্নের জাবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, মৃত্যুদণ্ডবিরোধী তুরষ্কের যে অবস্থান তা নিয়ে ঢাকায় ভুল বোঝাবুঝি আছে। তিনি মনে করেন এই ভুল বোঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈরিতা নেই। সব বৈধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফতেহ উল্লাহ গুলেনের সহায়তায় বাংলাদেশে পরিচালিত তার্কিস হোপ স্কুলের পরিচালনা পর্ষদেও পরিবর্তন আনার জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে তুরস্ক।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যাকারের পর ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে আনকারায় ডেকে নেয় এরদোগান সরকার। প্রায় তিন মাস পর তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় ফেরেন। তার ফেরার পর এটিই ছিল প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভুত্থানের বিপক্ষে এবং এরদোগান সরকারের পক্ষে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের একচেটিয়া সমর্থনের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত।

কেবি