চলতি সেপ্টেম্বরের শেষে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই সুযোগকে হাতছাড়া করতে চাইছে না আমেরিকা। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি আমেরিকা সফর না হলেও নজিরবিহীনভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংবর্ধনা জানাতে তৈরি হয়েছে তারা।

২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর দু দিন ধরে হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মোদিকে হোয়াইট হাউসের বিপরীত দিকে ব্লেয়ার হাউসে রেখে আনুষ্ঠানিক ভবে সংবর্ধনা জানানো হবে। এখানেই অনুষ্ঠিত হবে দু দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর মুখপাত্র ক্যাটলিন হেডেন বলেন, ‘মোদি- ওবামা দু দিনব্যাপী আলোচনা চালাবেন, এর থেকেই স্পষ্ট হয় যে ভারত- মার্কিন সম্পর্কের ওপর আমরা কতটা জোর দিচ্ছি।’
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে মুখিয়ে রয়েছেন।’

ভারত ও মার্কিন এই আলোচনায় আর্থিক অগ্রগতি বজায় রাখা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া আফগানিস্তান, ইরাক এবং সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মার্কিন বিবৃতিতে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সফরে ওয়াশিংটন এবং নিউইয়র্ক শহরে একাধিক বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। আলাদাভাবে কথা বলবেন মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। ম্যার্ডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে মোদিকে স্বাগত জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনার জেরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট বুশের আমলে মোদির ভিসা বাতিল করা হয়।
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি দিল্লির মসনদে বসতেই ইউটার্ন নেয় মার্কিন নীতি। ইতিমধ্যেই ভারত সফর করে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রসচিব জন কেরি এবং প্রতিরক্ষা সচিব চাক হ্যাগেল। স্বয়ং ওবামা ও ফোন করে কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।

অতীতের শীতল সম্পর্ককে দূরে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নতুন করে উষ্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই