চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের ফলে ভারতের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে-এমন কোন তথ্য তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
ভারতের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ ধরনের তথ্য সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়-এই নীতিমালার ভিত্তিতে বাংলাদেশের যেই পররাষ্ট্র নীতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চালু করেছিলেন বর্তমান সরকার সেই নীতিতেই দেশ চালাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা সবার সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাই, কারো সাথেই আমরা শত্রুতা করতে চাই না। কাজেই চীনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের ফলে কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন হবে এটা ঠিক নয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রাখতে গিয়ে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ অনেক সুবিধা আদায় করতে পারছে না-এমন তথ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোন তথ্য তার জানা নেই।
ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল তার অনেক কিছু বাংলাদেশের সক্ষমতার অভাবে কার্যকর করা যাচ্ছে বলে চীনের পক্ষে থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে-এ ব্যাপারে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এমন কোন তথ্য তার জানা নেই।
উল্লেখ্য, আগামীকাল শুক্রবার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গণচীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং- বাংলাদেশ সফরে আসছেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে চীনের রাষ্ট্রপতির এই সফর।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীনের রাষ্ট্রপতিকে বিমান বন্দরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানাবেন রাষ্ট্রপতি। সম্বর্ধনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আকাশ সীমায় প্রবেশের সাথে সাথে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দু’টি জেট গণচীনের রাষ্ট্রপতির বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে আসবে। বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর একুশবার তোপধ্বনির পর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল সফররত রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করবেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, সফরকালে গণচীনের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পীকারের সাথে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়াও তিনি দু’দেশের মধ্যকার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন। চীনের রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আপ্যায়ন করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ২৫ (পঁচিশ) এর অধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ চূক্তিসমূহ স্বাক্ষরের ফলে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, তথ্য যোযোগাযোগ প্রযুক্তি, ভৌত অবকাঠামো সড়ক-সেতু, রেল যোগাযোগ ও জলপথে যোগাযোগ, কৃষি-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
একই সাথে, এই চূক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সমুদ্র-সম্পদসহ দুর্যোগ মোকাবেলা, জলবাযু পরিবর্তন বিষয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সংযোজিত হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশের কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে চীনের কুনমিন প্রদেশ পর্যন্ত সড়ক নির্মানের বিষয়েও এই সফরে কার্যকর আলোচনা হতে পারে বলেও এক প্রশ্নের জবাবে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, অত্যন্ত নিবিড় এবং নানাবিধ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চাশের দশকে দু’বার বঙ্গবন্ধুর গণচীন সফরের মাধ্যমে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ২০১০ এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর গণচীন সফরকালে সেই সম্পর্ক আরো গভীর, নিবিড় ও ব্যাপক অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, গত চার দশক ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ-অবকাঠামো বিনির্মাণ-এ গণচীনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে গণচীনের বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক জার্মান ও অষ্ট্রিয়া সফর সম্পর্কেও সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
এ সময় জার্মান থেকে প্রায় ৫শ অবৈধ বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জার্মান সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে কোন আলাপ হয়নি। তবে, কোন বাংলাদেশী অবৈধ হিসেবে কোন দেশে থাকুক এটা বাংলাদেশ সরকার চায় না বলেও জানান মন্ত্রী।
কেবি





