আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে ৩৪ ঘণ্টার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভে অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী কুয়ালালামপুরে সমবেত হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, বিক্ষোভ ঠেকাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার রাজধানী ও এর আশেপাশে সমাবেশ ও হলুদ টি-শার্ট নিষিদ্ধ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়ালালামপুরের কিছু এলাকা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার বিক্ষোভ দমাতে সেনাবাহিনীর সাহায্য নেয় কিনা তা নিয়েও গুঞ্জন শোনা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী নাজিব ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট (ওয়ান এমডিবি) নামের একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে দেশটির মানবাধিকার সংগঠন বেরসিহ বিক্ষোভের ডাক দেয়। বিক্ষোভে কুয়ালালামপুরে কমবেশি দুই লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে বেরসিহ। এটা হবে ২০০৯ সালে নজিব প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সংগঠনটির বড় ধরনের তৃতীয় বিক্ষোভ। পুলিশ এই বিক্ষোভকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে তা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভ কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় আয়োজকরা।
কুয়ালালামপুরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার জোহর প্রদেশের বাতু পাহাত এলাকায় জড়ো হয় হাজার হাজার লোক। তাদের বেশির ভাগই হলুদ শার্ট পরে আসে। কুয়ালালামপুরের বাইরেও দেশটির বড় বড় শহর এবং অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশেও একই সময়ে মালয়েশীয় নাগরিকদের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নাজিব ওয়ান এমডিবি তহবিলের চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন। সেখান থেকে অর্থ আত্মসাতের খবর জানাজানি হওয়ার পর দুই মাস ধরেই দেশটিতে জোর রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। অবশ্য, নাজিব অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
ওয়েবসাইট বন্ধ
বিক্ষোভ ঠেকাতে আয়োজক সংগঠন বেরসিহর একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। বেরসিহ ডট অর্গ-নামের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বিক্ষোভ-সংক্রান্ত খবর প্রচার করা হচ্ছিল। তবে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার এ ধরনের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়। শুক্রবার পরীক্ষা করে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারগুলো থেকে ওই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। সূত্র : বিবিসি
এএইচ





