পাকিস্তানে শুক্রবার রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ থাকার পর সম্প্রতি পেশোয়ারের একটি স্কুলে হামলার ঘটনার জেরে এই শাস্তি কার্যকর করা হলো।

আকিল ওরফে ডা. উসমান ও আরশাদ মাহমুদ নামে দুই মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফয়সালাবাদের জেলে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। পাঞ্জাব সরকারের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফয়সালাবাদের কেন্দ্রীয় ও পাঞ্জাবের জেলা কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেডিকেল শাখার সাবেক সৈন্য ছিলেন ডা. উসমান। ২০০৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদরদফতরে হামলার সঙ্গে জড়িতের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

আরেক আসামি আরশাদের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফের শাসনামলে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে গত মঙ্গলবার তালেবান হামলায় ১৩২ শিশুসহ অন্তত ১৪১ জন নিহতের ঘটনায় বুধবার মৃত্যুদণ্ডাদেশের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেয়ার বিলে অনুমোদন দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এরপর বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রপতি মামনুন হোসাইন ১৭ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

বাইরের দেশগুলোর চাপের মুখে ২০০৮ সালে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। সম্প্রতি স্কুলে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। এরপরই এ রায় কার্যকর করা হলো।

তবে শুক্রবার সকালে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটির মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ কমানো যাবে না, এটা প্রতিশোধস্পৃহা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: ডননিউজ ও আলজাজিরা।

কেএইচ