ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল সুইডেন। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্বীকৃতি দেবার জন্য সুইডেনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মাহমুদ আব্বাস সুইডেনের এ উদ্যোগকে সাহসী ও ঐতিহাসিকবলে উল্লেখ করেন। আব্বাস সুইডেনের এই পদক্ষেপ অনুসরণ করে অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র আবু রুদেইনা বলেন, এই পদক্ষেপ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে কয়েক মাস যাবৎ বেড়ে চলা উত্তেজনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে এবং ইসরাইল সম্প্রতি এখানে আরো ৩৬০০বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরাইলের এ চেষ্টার নিন্দা করেছে।

আবু রুদেইনা বলেন, ‘জেরুজালেমে ইসরাইলি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

মুখপাত্র মাহমুদ আব্বাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের সকল রাষ্ট্র, যারা ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দিতে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে তাদের সুইডেনকে অনুসরণ করা উচিত।

পশ্চিম ইউরোপে সুইডেনই প্রথম ইইউ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিল।

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারগট ওয়ালস্ট্রম এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক যে সব আইন রয়েছে তা এরই মধ্যে ফিলিস্তিন বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকার মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ছাড়া সুইডেনের এ পদক্ষেপ আরো অনেকে অনুসরণ করবে বলেও একই সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নে আমেরিকার সমালোচনাকে নাকচ করে দিয়েছে সুইডেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতটি দেশ এরই মধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ দেশগুলো হলো-বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, হাংগেরি, মাল্টা, পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া। এ ছাড়া আইসল্যান্ডও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সূত্র: আইআরআইবি ও বিএসএস

এসএমএ