মিশরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসির ছেলে আব্দুল্লাহ বলেছেন, তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস সিসি জড়িত রয়েছেন।

তিনি এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, তার বাবাকে হত্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সিসি ও তার সহযোগীরা জড়িত। বিশেষকরে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ তওফিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগদি আব্দেল গাফফার জড়িত রয়েছেন।

আব্দুল্লাহর মতে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তারা হচ্ছেন- বিচারপতি শিরিন ফাহমি, বিচারপতি শাবান আশ-শামি, বিচারপতি আহমেদ সাবরি, অ্যাটর্নি জেনারেল নাবিল সাদেক ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান আব্বাস কামাল।

তবে এখন পর্যন্ত মুরসির ছেলের এই অভিযোগের বিষয়ে মিশরের সরকার কোনো মন্তব্য করে নি।  

এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগানও অভিযোগ করেছেন, মুরসির মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গত ১৭ জুন মিশরের একটি আদালতের এজলাসে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তৃতা দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোহাম্মাদ মুরসি। এর আগে তিনি আদালতে বলেছিলেন, তার জীবন হুমকির মুখে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে বিশাল গণঅভ্যুত্থান। এতে পদচ্যুত হন হোসনি মোবারক। এরপর মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ইসলামপন্থী দল ‘ইখওয়ানুল মুসলিমিন’ বা ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের’ হাফেজ ড. মোহাম্মদ মুরসি।

কিন্তু ২০১৩ সালে গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

২০১৩ সালে মুরসির নেতৃত্বাধীন মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করা হয়। এর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মুরসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অর্থের বিনিময়ে কাতারের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার করেছেন। এই অভিযোগে আদালত হাফেজ মোহাম্মদ মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।

এমবি