গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২২ হাজারের বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে ফিলিপাইনে টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোক মারা যায়।
বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইএফআরসি)’র বার্ষিক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
আইএফআরসি প্রধান আলহাজ আস সাই বলেন, ‘জীবিকা ধ্বংস ও ক্রমবর্ধিষ্ণু নিরাপত্তাহীনতার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব বিশ্বকে একটি নতুন ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
হাইয়ান ২০১৩ সালের নভেম্বরে ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লেইতের তাকলোবান ও আশপাশের এলাকাগুলোতে আঘাত হানে।
আইএফআরসি জানায়, ওই ঘটনায় অন্তত ৭ হাজার ৯৮৬ জন প্রাণ হারায়।
পরবর্তী ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি ২০১৩ সালের জুন মাসে ভারতে আঘাত হানে। মৌসুমী বন্যায় ওই সময় ভারতে ৬ হাজার ৫৪ জনের মৃত্যু হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থাটি আরো জানায়, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২২ হাজার ৪৫২ জনের প্রাণহানি ঘটে। খবর এএফপি’র।
২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ছিল গড়ে ৯৭ হাজার ৯৫৪ জন।
২০০৪ সালে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। ওই বছর ২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৯ জন মারা যায়। এদের অধিকাংশই ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রাণ হারায়।
২০১৩ সালে এশিয়ায় প্রায় ১০ কোটি লোক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বছর এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে প্রতিবেদনটির প্রধান সম্পাদক টেরি ক্যানন বলেছেন, মৃতের সংখ্যা এই সব ঘটনার অংশ মাত্র।
মৃতের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে একটি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সক্ষমতা নির্ণয় করা যেতে পারে।
উদারহণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে ২০১৩ সালের অক্টোবরে ভারতে সাইক্লোন ফাইলিনের আঘাতে ৩৬ জন প্রাণ হারায়।
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচির আওতায় পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দেরকে সরিয়ে নেয়ার কারণে ওই ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়। চলতি সপ্তাহে সাইক্লোন হুদহুদের সময়ও একইভাবে স্থানীয়দের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৩ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ১১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্ষতির এই পরিমাণ এক দশকের মধ্যে চতুর্থ সর্বনিম্ন। যদিও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ সব সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে পারে না।
এসএমএ





