একের পর এক পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনে। পদত্যাগের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টিকে ম্যাটিসের ‘অবসরে যাওয়া’ বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ অবসরে যাবেন ম্যাটিস।

সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার একদিন পরই এ কথা জানালেন ট্রাম্প। তবে কাকে ম্যাটিসের স্থলাভিষিক্ত করা হবে তা বলেননি ট্রাম্প।

মার্কিন নৌবাহিনীতে ৪৪ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যাটিস। ২০০১ সালে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে কম্ব্যাট কমান্ডার হিসেবে একটি টাস্কফোর্সকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় একটি মেরিন ডিভিশনেরও নেতৃত্ব দেন ম্যাটিস। ইরাক যুদ্ধের সময় ২০০৪ সালে ফালুজার লড়াইয়ের মতো সবচেয়ে রক্তাক্ত লড়াইয়ে নৌসেনাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশংসিত তিনি।

কমান্ডার অব অ্যা মেজর হিসেবে ন্যাটোর স্ট্রাটেজিক কমান্ডেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সোজা-সাপ্টা কথা বলা নেতা হিসেবে পরিচিত ম্যাটিস ২০১০ সালে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড পরিচালনার দায়িত্ব পান। এ পদে আসীন ব্যক্তির দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত সকল মার্কিন বাহিনীকে পরিচালনা করা। ইরান পারমাণবিক চুক্তির কঠোর সমালোচকও ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ম্যাটিসকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাম্প।

পদত্যাগপত্রে, ম্যাটিস নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা লিখেছেন। বলেছেন, তিনি ‘মিত্রদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ’ এবং সাধারণের প্রতিরক্ষায় মার্কিন ক্ষমতার সবগুলো হাতিয়ার ব্যবহারের পক্ষপাতী।

ম্যাটিস আরও লিখেছেন, এসব বিষয় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যার দৃষ্টিভঙ্গি আপনাদের সঙ্গে বেশি ভালো মিলবে সেরকম একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাওয়াটা আপনাদের অধিকার। আমি বিশ্বাস করি, আমার সরে যাওয়া উচিত।

এদিকে জিম ম্যাটিসের পদত্যাগকে অবসরে যাওয়া বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘মিত্রতার সম্পর্ক তৈরি এবং অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে তাদের ‘সামরিক দায়বদ্ধতার’ ভাগটুকু আদায়ের ক্ষেত্রে ম্যাটিস আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’ ট্রাম্পের দাবি, ম্যাটিস স্বেচ্ছায় অবসরে যাচ্ছেন।

তবে বিবিসির বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ম্যাটিসের পদত্যাগকে ট্রাম্প অবসরে যাওয়া বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলেও তা সঠিক নয়। সংবাদমাধ্যমটি মনে করছে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতভেদকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ হিসেবেই ম্যাটিস পদত্যাগ করছেন।

জেড