আমরা যেন কেবল পৈতৃক সূত্রে মুসলমান না হই বরং আমাদেরকে পড়াশোনা করে, জেনেবুঝে মুসলমান হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দিন। তিনি বলেন, মহানবীর উপর নাজিলকৃত গ্রন্থ কুরআন হল পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এই মহাগ্রন্থটির সঠিক অনুসরণ এবং মহানবীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন গড়লেই কেবল আমাদের জীবন সার্থক হবে।
বধুবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে ‘মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) : রহমত, শান্তি ও বন্ধুত্বের নবী’শীর্ষক এক আলোচনা সভা হয়েছে। ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মেশকাত উদ্দিন এইসব কথা বলেন।
ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দিন বলেন, মুসলমানরা বর্তমানে একটি সংকটকালের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। একদিকে অমুসলিমরা ইসলাম ও মহানবী (সা: ) সম্পর্কে না জেনে বিভিন্ন মন্তব্য করছে অন্যদিকে মুসলমানদের একটি অংশ তাদের ধর্ম সম্পর্কে না জেনে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যেন কেবল পৈতৃক সূত্রে মুসলমান না হই বরং আমাদেরকে পড়াশোনা করে, জেনেবুঝে মুসলমান হতে হবে। মহানবীর উপর নাজিলকৃত গ্রন্থ কুরআন হল পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এই মহাগ্রন্থটির সঠিক অনুসরণ এবং মহানবীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন গড়লেই কেবল আমাদের জীবন সার্থক হবে।
ড. মেশকাত উদ্দিন বলেন, পাশ্চাত্য মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে পরিচিত করানোর চেষ্টা করছে অথচ এই ধর্ম শান্তির ধর্ম এবং আমাদের মহানবী (সা:) প্রায় ১৫০০ বছর আগে জাহেলিয়াতের যুগে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকাহ একাডেমির বাংলাদেশস্থ স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল্লাহ আল মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইরান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাটাসে মাহদী তোরাবী মেহরাবানী। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক আবদুল কুদ্দুস বাদশা। স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন- ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কালচারাল কাউন্সেলর ড. সাইয়্যেদ মাহদী হোসেইনী ফায়েক।
ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কালচারাল কাউন্সেলর ড. সাইয়্যেদ মাহদী হোসেইনী ফায়েক বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) উত্তম চরিত্র ও সমস্ত সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতস্বরূপ হওয়ায় তিনি সর্বকালের সমস্ত মানুষের জন্য আদর্শ। সর্বোত্তম ও সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে মানবতার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি দয়ালু, আন্তরিক ও সহানুভ‚তিশীল ছিলেন। তাঁর মহিমা ও মহানুভবতা এমন পর্যায়ে ছিল যে, মহান আল্লাহ তাঁকে মহৎ গুণ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসাবে প্রশংসা করেছেন।
ড. সাইয়্যেদ মাহদী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বশান্তির বিষয়টি যখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে তখন রাসূলের জীবন থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাসূলের জীবনীর প্রতি দৃষ্টি দিলে এই বাস্তবতাই স্পষ্ট হয় যে, ইসলামের পথে মানুষকে আহ্বান এবং শান্তিপূর্ণভাবে ইসলামের বিস্তৃতি ও গোমরাহী থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়াই ছিল রাসূলের প্রধান কাজ।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে নাত-এ রাসূল পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী শাহ নওয়াজ তাবীব, মেহেদী হাসান ও আলী মোহাম্মদ মেহেদী হোসেন।
এমবি





