ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ‘মুক্ত গণহত্যা’ চালাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তান অধ্যুষিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসুদ খান। আজ ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যের একপর্যায়ে মাসুদ খান সবাইকে সতর্ক করে বলেন, কাশ্মীরে লোকদের তুলে নিয়ে হত্যা করে অচিহ্নিত কবরে দাফন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ এক প্রতিবেদনে সরদার মাসুদ খানকে উদ্ধৃত করে জানায়, “নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার মানুষকে তুলে নিয়ে জেল হাজতে ভরা হয়েছে এবং কোনো কারণ না দেখিয়েই তাদের দুই বছরের জন্য আটকে রাখা হবে। এগুলোই অঞ্চলটিতে গণহত্যার মূল সূচক। গণমাধ্যম বন্ধ থাকার কারণে এসব অপরাধের খবর উপত্যকা থেকে বের হচ্ছে না।”
মাসুদ খান বলেন, “কাশ্মীরের জনগণের দুর্দশার বিষয়ে সাধারণত উপত্যকায় কী ঘটছে তার একতরফা বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ ভারত সেসব রিপোর্টারদেরই অনুমোদন দিচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে একতরফা রিপোর্টিং না করার জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ।”
আরও পড়ুন: ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই: নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন
আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট বলেন,“দীর্ঘ ৫০ বছর পর কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের (ইউএনএসসি) বৈঠক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে, কাশ্মীরের পক্ষে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ নয়; বরং এটি প্রথম পদক্ষেপ এবং আমাদের কাশ্মীরি ভাইদের জন্য আমাদের দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে।”
সরদার মাসুদ খান বলেন,“পরবর্তী পদক্ষেপটি ইউএনএসসির পক্ষে একটি ত্রি-দফা এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা। এর মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরে গণহত্যার অবসান, কাশ্মীরকে নিজের সাথে একীভূত করার ভারতের অবৈধ প্রয়াসকে পাল্টানো এবং কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়া।”
ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবিক সংকট বেড়ে উঠছে এবং সেখানকার লোকেরা খাদ্য সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে বলে সতর্ক করেন আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।
ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। ভারতের পদক্ষেপের কারণে ওই অঞ্চলে উদ্ভূত সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানায় পাকিস্তান। কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের পদক্ষেপকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করা হয়েছে।
চীনও পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বৃহস্পতি বা শুক্রবার কাশ্মীর নিয়ে বৈঠকে বসার আহ্বান জানায়। এরফলে জম্মু-কাশ্মীরের চলমান সংকট নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি)। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কাশ্মীর সংকট নিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
এমবি





