ব্রাজিলের জেনেরিও এলাকার একটি বস্তি আছে। এই বস্তির আট বছর বয়সী এক মেয়ে নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিভূ হিসেবে দাবি করছে। সে ছুঁয়ে দিলে নাকি সব ধরনের রোগ ভালো হয়ে যায়। এমনকি ক্যান্সার ও এইচআইভির মতো রোগও ভালো হয়ে যায়। তার এ চিকিৎসাকে স্পর্শ চিকিৎসা বললেও ভুল হবে না।
আলানি সন্তোস নাম তার। বাড়ি ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরোর শহরতলী জেনেরিওতে। বাবা পাস্তোর আদাউতো সান্তোস যাজকের কাজ করছেন স্থানীয় এক গির্জায়। অবশ্য আগে ছিলেন ছিঁচকে চোর। তার মেয়ের এই রোগ সারাবার অলৌকিক ক্ষমতার কথা ব্রাজিলের গণ্ডি পেরিয়ে সাড়া ফেলেছে পশ্চিমা জগতেও। ফেলবে নাই বা কেন বলুন, ইন্টারনেটের যুগ বলে কথা! তার এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ইউটিউবেরও যে একটা অবদান আছে! তার চিকিৎসার প্রচারণায় ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
তেমনি এক ভিডিওতে দেখা যায়, শিশু আলানি সান্তোস এক পঙ্গু বৃদ্ধাকে হাঁটতে সহায়তা করছে। বৃদ্ধা হাঁটছিলেন আলানির হাত ধরে। হাঁটতে হাঁটতে একসময় হাটু ভেঙে মেঝেতে পড়ে গেলেন। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, সাত বছর ধরে এইচআইভি আক্রান্ত একজনকে চিকিৎসা করছে আলানি।
সপ্তাহে দু বার আলানির বাড়ির সামনে রোগাক্রান্ত নানা ধরণের মানুষ এসে জড়ো হয়। তারা দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে থাকেন, কখন আলানি আসবে এবং তাদের একটা ছুঁয়ে দেবে। তাদের ধারণা, যিশু খৃস্টের মত আলানি একটু ছুঁয়ে দিলেই তারা সেরে উঠবেন। ছোঁয়াছুঁয়ির পর্ব শেষ হলে তাদেরকে সামনে রাখা বাটিগুলো ভরতে বলা হয়। বলা বাহুল্য পয়সা কড়ি দিয়ে।
গত দু বছর ধরে সে এভাবেই অসুস্থ লোকজনের চিকিৎসা করছে। তাদের সারিয়ে তুলার কাজটা তার বেশ পছন্দের। এজন্যই বোধহয় ভবিষ্যতে সে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। স্থানীয় এক পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আলানি জানায়,‘ এভাবে মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো যায়। এছাড়া এটি খুবই আনন্দের কাজ।’
সে আরো বলে,‘ কিছু অলৌকিক ঘটনার জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করি। আমার মাধ্যমে যাদের রোগমুক্তি ঘটেছে আমার বাবা তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।’
আলানির বাবা একটি ওয়েবসাইট চালান যেখানে লোকজন তাদের অসুস্থতার বিশদ বর্ণনা দিয়ে আলানির সঙ্গে দেখা করার আবেদন জানাতে পারেন। তাদের কাছে সে মিশনারিনহা অর্থাৎ ছোট্ট মিশনারি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এই সাইটটিতে আলিনহার চিকিৎসার বিভিন্ন ডিভিডি এবং পোস্টার বিক্রি করা হয়। আলানির সঙ্গে স্কাইপেতে যোগাযোগ করার জন্য অনেকে এ সাইটটির আশ্রয় নিয়ে থাকেন।
তবে গার্ডিয়ান পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আলানির বাবা সান্তোস বলেন,‘মানুষকে সুস্থ করে তোলার অলৌকিক ক্ষমতাটুকু বাদ দিলে তাকে একজন সাধারণ শিশুই বলা যায়। আসলে সবই তো যিশুর অবদান। ও একটা মাধ্যম মাত্র।’
আর নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে আলানির বক্তব্য হল,‘বেশির ভাগ সময় আমি রোগাক্রান্তদের শুধু স্পর্শ করি। মাঝে মাঝে তাদের জন্য প্রার্থণা করি। এতেই তারা সুস্থ হয়ে উঠেন।’
[b]
ঢাকা, ৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এনএস[/b]
আন্তর্জাতিক
অলৌকিক শিশুর স্পর্শে রোগমুক্তি!
ব্রাজিলের জেনেরিও এলাকার একটি বস্তি আছে। এই বস্তির আট বছর বয়সী এক মেয়ে নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিভূ হিসেবে দাবি করছে। সে ছুঁয়ে দিলে নাকি সব ধরনের রোগ ভালো হয়ে যায়। এমনকি ক্যান্সার ও এইচআইভির মতো রোগও ভালো হয়ে যায়। তার এ চিকিৎসাকে স্পর্শ চিকিৎসা বললেও ভুল হবে না।





