‘অপয়া’ বলে বাবা-মা তাকে বের করে দিয়েছে বাড়ি থেকে। বোঝ হওয়ার আগেই পৃথিবীর কি যে নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়েছে তাকে, সেটি উজ্জ্বল হয়েই ফুটে রয়েছে তার চেহারাতে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সেই অচ্ছুত শিশুটি পেয়েছে বেঁচে থাকার অবলম্বন। এখন হয়তো নিজেই সুযোগ পাবে অসহায় মানবতার কল্যাণে কাজ করার।
শিশুটি দুই বছর বয়সী এক নাইজেরিয়ান বালক। তাকে একজন সাহায্য কর্মী পানি খাওয়াচ্ছে গত জানুয়ারিতে পোস্ট করা এমন একটি ছবি আলোড়ন তুলেছিল বিশ্ব বিবেকে। ওই শিশুর কল্যাণে সবাই এসেছিল এগিয়ে।
ডাচ বাসিন্দা রিগ্যান লাভেন কাজের সুবাদে ছিলেন আফ্রিকায়। গত ৩১ জানুয়ারি তারই নজরে আসে শিশুটি। উদ্যোগ নেন তাকে বাঁচানোর। নিয়ে যান হাসপাতালে। নেয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা। এর দুই দিন পর তিনি বিশ্ববাসীকে এর সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সাড়াও পান ভালো। সংগ্রহ হয় প্রায় ১০ লাখ ডলার।
স্থান হয় একটি এতিমখানায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সুষম খাবার দিতে থাকেন শিশুটিকে। কিন্তু মাত্র দুই মাসেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অকল্পনীয় উন্নতি হয়ে যায়। সেই ছবিই আবার শেয়ার করেছেন তিনি।
গত শনিবার ছবিগুলো শেয়ার করার পর লাভেন লিখেছেন, ‘ছবিগুলোতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন হোপ (ওই শিশুটিকে দেয়া নাম) এখানে ৩৫ জন ভাই-বোন পেয়েছে। সবার সাথে খাচ্ছে-দাচ্ছে, খেলা করছে। পাচ্ছে শিক্ষার আলোও। ভালোবাসায় প্রকৃত জীবনের স্বাদ পাচ্ছে সে।’
লাভেন তার স্বামী ডেভিড ইমানুয়েল উমেমকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন দাতব্য প্রতিষ্ঠান আফ্রিকান চিলড্রেনস এইড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। হোপই তাদের প্রথম উদ্ধার নয়, ২০১৪ সালে তারা অপবাদ দিয়ে পরিবার থেকে বিতাড়িত এ রকম আরো ৮ শিশুকে উদ্ধার করেছেন বলে হাফিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন লাভেন।
এম আর
কুসংস্কার ও দারিদ্র্যপীড়িত নাইজেরিয়ায় ‘অপয়া’ বা ‘ডাইনি’ প্রসঙ্গটি বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ইউনিসেফের ২০১০ সালের রিপোর্ট সে কথাই বলছে। যেকোনো বড় সমস্যার জন্যই শিশুদের দোষারোপ করা হচ্ছে। ফলে এসব শিশুর জীবনে নেমে আসছে বিভীষিকা।
ইউনিসেফের মতে, স্থানীয় গীর্জা বা ধর্মীয় গুরুদের মাধ্যমে এসব কুসংস্কার ছড়াচ্ছে। অস্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয়া বা অটিজমের মতো প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে এসব কুসংস্কারের শিকার হতে হচ্ছে।
এম আর





